ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সিএনএনের বিশ্লেষণ 

ইরান চুক্তি নিয়ে পারমাণবিক কার্যক্রমসহ ৫ চ্যালেঞ্জে ট্রাম্প 

ইরান চুক্তি নিয়ে পারমাণবিক কার্যক্রমসহ ৫ চ্যালেঞ্জে ট্রাম্প 
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৩:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে হঠাৎ আন্তর্জাতিক মহলে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। এমনকি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন, একটি চুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে এটি কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি নয়, বরং একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। এই অন্তর্বর্তী চুক্তিতে মূলত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মার্কিন অবরোধ শিথিলের মতো সহজ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ও একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সামনে রয়েছে পাঁচটি বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত জটিলতা। 

ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম 
ইরানের সঙ্গে যে কোনো চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রম। ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র না বানাতে সম্মত হয়েছে। তবে শুক্রবার এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি নেই। এর অর্থ দাঁড়ায়, ইরান একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছে। 

এখানে মূল সমস্যা, ইরান চুক্তি মানছে কিনা, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? ট্রাম্প অতীতে বারাক ওবামার করা পরমাণু চুক্তিকে দুর্বল বলে উপহাস করেছিলেন। এখন যদি ট্রাম্পের চুক্তিও ওবামার চুক্তির মতো কেবল আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে তার নিজ দলের কট্টরপন্থিরাই এটি মেনে নেবে না। 

উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম 
ইরানের কাছে ইতোমধ্যে যে উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা নিয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন বিমান হামলার পর এই উপাদানগুলো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। তবে ট্রাম্প এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মাটির এত গভীরে থাকা উপাদান নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুরোপুরি উদ্ধার বা ধ্বংস করতে না পারলে ট্রাম্প এটিকে মার্কিন জনগণের কাছে বড় বিজয় হিসেবে দাবি করতে পারবেন না। 

ইরানের অবরুদ্ধ থাকা অর্থ 
২০১৬ সালে ওবামা প্রশাসন বন্দি মুক্তির বিনিময়ে ইরানকে ৪০ কোটি ডলার নগদ অর্থ ফেরত দিলে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা তার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন, এই অর্থ সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে। অথচ ইরান এখন তাদের অবরুদ্ধ থাকা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। 
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘কোনো নগদ অর্থ হাতবদল হবে না।’ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষর বা বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো অর্থ দেওয়া হচ্ছে না। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আসলে শব্দের খেলা। নগদ অর্থ না দিলেও কোনো এক পর্যায়ে ইরানের জব্দ থাকা হিসাবগুলো ব্যবহারের জন্য সচল করে দেওয়া হবে। আর তা করা হলে ট্রাম্প নিজেই ওবামার মতো একই সমালোচনার মুখে পড়বেন। 

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ
চলমান যুদ্ধ ইরানকে একটি কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে, তারা চাইলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতি স্তব্ধ করে দিতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে দেশটি প্রণালি খুলে দিতে রাজি হলেও ভবিষ্যতে তারা যেন আর কখনও এই জলপথ বন্ধ করতে না পারে– চূড়ান্ত চুক্তিতে তার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান থাকতে হবে। এই বিষয়ের সমাধান না করে ওবামার চুক্তির মতো কিছু করা হলে সমালোচকরা একে ওবামার চেয়েও খারাপ চুক্তি বলে আখ্যা দেবেন।

ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন 
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন সম্পূর্ণ বন্ধ করা। দুই মাস আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান সব দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু বর্তমান আলোচনাগুলোয় এই বিষয়য়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে অনেকটাই নীরব থাকতে দেখা যাচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বন্ধ করা হবে এবং তা কীভাবে যাচাই করা হবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা না থাকলে ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই ব্যর্থ হবে।

আরও পড়ুন

×