ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট পুনর্বিবেচনার দাবি ১৪টি সংগঠনের

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট পুনর্বিবেচনার দাবি ১৪টি সংগঠনের
×

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কাজ করা ১৪টি সংগঠন। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৭:১৬

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে চাহিদার তুলনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বরাদ্দ অপ্রতুল উল্লেখ করে এই বাজেট পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য করা ১৪টি সংগঠন। তারা বলেছে, নতুন বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা ও উপবৃত্তি কিছুটা বৃদ্ধি করা হলেও বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই বাজেট প্রণয়নের আগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা তাদের সংগঠন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। সরকারকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে অধিকারের জায়গা থেকে দেখতে হবে। চলমান সংসদ অধিবেশনেই এই বাজেট পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ১৪টি সংগঠন আয়োজিত 'বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থান' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। এতে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মহুয়া পাল। সঞ্চালনা করেন উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি।

মূল বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা করা, উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪.৫ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৮ লাখে উন্নীত করা, শিক্ষা উপবৃত্তির উপকারভেগীর সংখ্যা ও মাসিক উপবৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং ১৫টি সহায়ক উপকরণের আমদানি অগ্রিম আয়কর ২% থেকে কমিয়ে ১% করা হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে- প্রতিবন্ধী খাতে মোট বরাদ্দ ৪ হাজার ৯৭২.৫৬ কোটি টাকা, যা সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাত্র ৩.৪৫% এবং মোট জাতীয় বাজেটের মাত্র ০.৫৩%।

সংবাদ সম্মেলনে বাজেট পুনর্বিবেচনার জন্য সাত দফা প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। এসব দাবি হচ্ছে-  প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা কমপক্ষে ৫,০০০ টাকা ও মাঝারি মাত্রার প্রতিবন্ধীদের জন্য ২,০০০ টাকা নির্ধারণ; অতি গুরুতর মাত্রার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সার্বক্ষণিক কেয়ারগিভারের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা হারে নতুন ভাতা কার্যক্রম চালু; দেশের শতভাগ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপবৃত্তির আওতায় আনা ও উপবৃত্তির পাশাপাশি তাদের প্রতিবন্ধী ভাতাও প্রদান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা।

১৪টি সংগঠনের দাবিতে আরও রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া; ডিজিটাল হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কৃষক ও নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কর্মরত সংগঠনগুলোর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কর্মসূচী গ্রহণ করতে বাজেট বরাদ্দ রাখা।

আরও পড়ুন

×