ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

‘দেশে ১০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত’

‘দেশে ১০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত’
×

ছবি: সমকাল

ফরিদপুর অফিস 

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৮:৩০ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৮:৩০

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুসারে দেশে ১৭ লাখ ৮০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

রোববার বেলা ১১টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট গ্রুপ (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)সহ বিভিন্ন শিশু সংগঠনের সদস্য এবং শতাধিক নাগরিক মানববন্ধনে অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, নীতিগত অঙ্গীকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে শিশুশ্রম এখনো একটি গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। দেশে শিশুশ্রম মূলত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কেন্দ্রীভূত। এসব খাতে কর্মরত শিশুরা আইনি সুরক্ষার বাইরে থেকে যায়। বিশেষ করে রাস্তায় পণ্য ফেরি, কারখানায় শ্রম এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে শিশুরা বেশি জড়িত।

প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ খান বাদল শুরুতে বক্তব্য রাখেন। 

শিশু সংগঠন ফুলকির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আজম বলেন, ‘আমরা শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে আছি। তবে অনেক শিশুর আয়ের ওপর তাদের পরিবার নির্ভর করে। তাই শিশুশ্রম বন্ধে সামাজিক নিরাপত্তা ও পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’ 

শিশু সংগঠন খেলাঘর ফরিদপুরের সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে শিশুদের সম্পৃক্ততা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিষাক্ত বর্জ্য, ধারালো বস্তু ও রোগজীবাণুর সংস্পর্শে এসে এসব শিশু প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।’ 

সনাক সদস্য মাহবুবুর রহমান সরকারের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নিরসনে সাতটি সুপারিশ তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলো— শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা দ্রুত হালনাগাদ করা, যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নিরসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে; পাশাপাশি এ খাতের শিশুশ্রমিকদের আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন সাপেক্ষে বিকল্প কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মক্ষেত্র ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিশুশ্রম নির্মূলে শ্রম আইন, ২০০৬ প্রয়োগ করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার লক্ষ্যে জনগণকে সচেতন করতে ব্যাপকভাবে প্রচারণা কার্যক্রম গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই মানববন্ধনের মূল উদ্দেশ্য হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখানো।’ মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. গোলাম মোস্তফা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। মানববন্ধন শেষে একটি র‍্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। অংশগ্রহণকারীরা ‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি’ স্লোগান দিয়ে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন

×