ভারতের পুশইন চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দেশটির মানবাধিকারকর্মী
মানবাধিকারকর্মী কিরীটী রায়। ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৬:৫৫
সাম্প্রতিক ভারত থেকে বাংলাদেশে যেসব মানুষকে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের পরিচয় ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির মানবাধিকারকর্মী কিরীটী রায়। তার দাবি, যাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের পরিচয়, তালিকা এবং সীমান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
তিনি বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যিই বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে তাদের নাম ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা উচিত।
কিরীটী রায় প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ থেকে দূরবর্তী ভারতের কেরলা, পাঞ্জাব বা অন্য রাজ্য থেকে মানুষ কীভাবে বিশেষ দিনে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছেন। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে যে সীমান্ত পয়েন্টগুলির কথা সামনে আসছে, সেখানে সরাসরি রেল বা সরকারি বাস পরিষেবাও নেই। ফলে ওই ব্যক্তিরা কীভাবে বিশেষ সময়ে ওই সব স্থানে পৌঁছাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্তে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বহু ক্ষেত্রে পুশইন চেষ্টার শিকার পরিচয় জানতে পারছেন না। ছবি প্রকাশিত হলেও নাম বা পূর্ণ পরিচয় সামনে আসছে না। কেন এই তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
তার দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় যে ঘটনাগুলি ঘটছে, সেগুলি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। তার মতে, গণতান্ত্রিক সমাজে দৃশ্যমান ঘটনাকে প্রশ্ন করা এবং তার পেছনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার অধিকার নাগরিকের রয়েছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার উত্থাপিত প্রশ্নগুলির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ, লেখক ও সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক বলেন, যারা সাধারণ মানুষ, যারা কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের এই সীমান্ত পারাপারে যদি প্রাণ চলে যায় তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত যে সমাধানসূত্র রয়েছে তা অবলম্বন করতে হবে। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা উচিত।
- বিষয় :
- মানবাধিকার কর্মী
- ভারত
- পুশইন
