চুক্তি নিয়ে ইরানে বিভাজনের ইঙ্গিত, আরাঘচির পদত্যাগ দাবি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
আলজাজিরা ও এএফপি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৫:২৭
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি ঘিরে ফের ভিন্ন বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। রোববার দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে তেহরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স এজেন্সি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়েছে। তারা লিখেছে, সমঝোতা স্মারকের রাজনৈতিক, আইনি ও কারিগরি দিকগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো পর্যালোচনা চলছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে রোববার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। তখনও এই সময়সীমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি রোববার স্বাক্ষর হওয়ার কথা আছে। এদিন তিনি নিজের ৮০তম জন্মদিন উদযাপন করবেন।
ফার্সের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে ফার্সকে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের কট্টরপন্থীদের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে। এএফপি লিখেছে, সম্ভাব্য চুক্তির বিরোধিতা করেছেন ইরানের কট্টরপন্থি নেতাদের একটি অংশ। তাদের দাবি, চুক্তিটি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করছে না। এটি কার্যকর হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাব ও দর-কষাকষির সক্ষমতা কমে যাবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রোববার সমঝোতা স্বাক্ষরের খবরটি প্রথম সামনে আসে গত শুক্রবার। সেদিন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি উল্লেখ করেন, আলোচ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথা আছে।
আরাঘচি সেদিন আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আর আগের মতো থাকবে না।’ তাঁর ভাষায়, এই জলপথ ইরানের অন্যতম প্রধান প্রতিরোধের হাতিয়ার।
আরাঘচির ওই সাক্ষাৎকার প্রচারের পর শনিবার ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে একদল লোক বিক্ষোভ করেন। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরা নারীরা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ‘আরাঘচির পতন হোক’ বলে স্লোগান দেন। তারা আরাঘচিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
ইরানের কট্টরপন্থীদের অভিযোগ, চুক্তি নিশ্চিত করতে ইরানি আলোচকরা অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরের বিক্ষোভের আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উপস্থিত জনতা স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফেরও পদত্যাগ দাবি করছেন। গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকারী দলের অন্যতম সদস্য। ভিডিও ক্লিপটি এএফপি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
- বিষয় :
- সমঝোতা স্মারক
- ইরান
- বিক্ষোভ
- আব্বাস আরাগচি
