মহাকাশ বেচে দুনিয়ার ধনী ইলন মাস্ক
ফাইল ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৩:২১
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, যিনি স্পেসএক্স, টেসলা এবং এক্সের (সাবেক টুইটার) প্রধান। ইতিহাস গড়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছেন তিনি। ট্রিলিয়ন ডলার মানে হলো, এক হাজার বিলিয়ন ডলার। ১ সংখ্যার পর ১২টি শূন্য বসালে হয় এক ট্রিলিয়ন। যাকে বাংলায় বলা যেতে পারে, এক লাখ কোটি।
বেশ কিছু সময় ধরে মাস্ক বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন, অথবা অন্তত সেই অবস্থানের কাছাকাছি ছিলেন। ফোর্বসের মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার (৫০০ বিলিয়ন) নিট সম্পদ অর্জন করেন। এক মাস পরে টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তাঁর জন্য একটি রেকর্ড গড়া পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করেন, যার সম্ভাব্য মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে তাঁর রকেট নির্মাতা ও স্যাটেলাইট অপারেটর কোম্পানি স্পেসএক্স– যেটির মালিকানায় এক্স, গ্রক এবং স্টারলিংকও রয়েছে, সেটি পাবলিক হওয়ার পর মাস্কের নিট সম্পদ বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে তিনি শুধু বিপুল সম্পদের জন্যই পরিচিত নন, স্পেসএক্সের প্রধান হিসেবে তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সমসাময়িক নানা বিষয় থেকে মানবজাতির ভবিষ্যৎ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম নেওয়া মাস্ক ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরে তৈরি চকলেট ইস্টার ডিম বিক্রি করতেন এবং ১২ বছর বয়সে নিজের প্রথম কম্পিউটার গেম তৈরি করেন। তিনি তাঁর শৈশবকে কঠিন বলে উল্লেখ করেছেন, যা বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, স্কুলে বুলিং বা হয়রানি এবং অ্যাসপারগার সিনড্রোমের কারণে সামাজিক সংকেত বোঝার অসুবিধার কারণে প্রভাবিত ছিলেন।
সুযোগ পাওয়ামাত্র তিনি পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে কানাডা, তার পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, যেখানে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও পদার্থবিদ্যায় পড়েন।
সম্পদ তৈরি করলেন যেভাবে
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর মাস্ক দ্রুতই তা ছেড়ে দেন এবং ১৯৯০-এর দশকে দুটি প্রযুক্তি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেন। এর মধ্যে ছিল একটি ওয়েব সফটওয়্যার কোম্পানি এবং একটি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা পরে পেপ্যালে পরিণত হয় এবং ২০০২ সালে ই-বের কাছে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। তিনি সেই অর্থ বিনিয়োগ করেন স্পেসএক্সে, যা নাসার তুলনায় কম খরচে বিকল্প তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। একই সঙ্গে তিনি অর্থ বিনিয়োগ করেন টেসলায়, যেখানে তিনি ২০০৮ সালে প্রধান নির্বাহী হন। এ দুই কোম্পানি তাদের নিজ নিজ শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যদিও মাঝে মাঝে এগুলো আর্থিক সংকটের কাছাকাছিও পৌঁছেছিল।
নিট সম্পদের পরিমাণ
ব্যক্তিগত নানা বৈপরীত্য মাস্কের বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ব্লুমবার্গের হিসাবে, বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন। তবে তাঁর সম্পদের বড় অংশ স্পেসএক্সের শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত। ফলে শেয়ারের দাম কমে গেলে তাঁর ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা পরিবর্তিত হতে পারে।
রাজনৈতিক মতাদর্শ কী
২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া মাস্ক দীর্ঘদিন নিজেকে ‘অর্ধেক ডেমোক্র্যাট, অর্ধেক রিপাবলিকান’, ‘রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থি’ এবং ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও জো বাইডেনকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন এবং ২০২৪ সালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেন।
সন্তানের সংখ্যা
ইলন মাস্কের ১৪ সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর গর্ভে ছয়জন, কানাডার সংগীতশিল্পী ক্লেয়ার এলিস বুশে বা গ্রাইমসের সঙ্গে তিন সন্তান, নিউরোলিংক নির্বাহী শিভন জিলিসের সঙ্গে চার সন্তান এবং ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলি সেইন্ট ক্লেয়ারের থেকে এক সন্তান। জিলিসের সঙ্গে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তিনি লিখেছিলেন, জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। খবর বিবিসির।
- বিষয় :
- ইলন মাস্ক
