স্বর্ণের দাম কেন কমছে?
স্বর্ণের বার। ফাইল ছবি: এএফপি
আলজাজিরা
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৩:১২
বৈশ্বিক কোনো সংকটের সময় সাধারণত স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়। কারণ বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে এবারের চিত্রটা ভিন্ন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম চাপে আছে। ২৮ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার তা নেমে এসেছে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।
এর প্রধান কারণ হলো, দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি। অনেকের আশঙ্কা বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাবে না। বরং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তারা সুদের হার আরও বাড়াতে পারে।
এই মূল্যস্ফীতির বড় একটি কারণ হরমুজ প্রণালি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে দেশটির শ্রমবাজারও স্থিতিশীল। ফলে অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কম।
যদিও স্বর্ণ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে সুরক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়, তবু উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ স্বর্ণকে ‘নন-ইয়েল্ডিং’ সম্পদ বলা হয়। অর্থাৎ, এটি নিজে থেকে কোনো আয় তৈরি করে না। স্বর্ণ থেকে লাভ করতে হলে এর দাম বাড়তে হয়।
আর্থিক খাতবিষয়ক ওয়েবসাইট অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের প্রধান বিশ্লেষক জাস্টিন কার্ডওয়েল আলজাজিরাকে বলেন, সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ প্রকৃত অর্থের সবচেয়ে কাছাকাছি জিনিস। এটি লভ্যাংশ দেয় না, আবার দাম না বাড়লে কোনো আয়ও দেয় না। মানুষ মূলত দাম বৃদ্ধির আশায় স্বর্ণ কেনে। এ কারণেই সুদের হার ও স্বর্ণের মধ্যে সরাসরি প্রতিযোগিতা হয়।
কার্ডওয়েল বলেন, সুদের হার বেশি থাকলে এবং মানুষ ডলারে বিনিয়োগ বাড়ালে স্বর্ণের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।
- বিষয় :
- স্বর্ণ
- স্বর্ণের দাম
- মূল্যস্ফীতি
- ডলার কেনাবেচা
