কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘চিকিৎসা’ প্রয়োজন
সিঁড়ির পাশের পিলার ও ছাদে দেখা দিয়েছে বড় ধরণের ফাটল। ছবি- সমকাল
কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২২ | ০৫:৪১ | আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২২ | ০৫:৪৩
নড়াইলের কালিয়ায় চার লক্ষাধিক মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য পুরো উপজেলায় রয়েছে একটিমাত্র সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু এই সরকারি হাসপাতাল ভবনটিই মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে উপজেলাবাসী। সম্প্রতি হাসপাতাল ভবনের দেওয়াল ও পিলারে দেখা গেছে বড় ধরনের ফাঁটল। খষে পড়েছে ছাঁদের অংশ ও দেওয়ালের পলেস্তারা। বিভিন্ন স্থানে ধরা ফাঁটল ও ছাঁদের অংশ ভেঙে পড়ে যে কোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবন রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষসহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের জীবন রীতিমতো ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা। তাই হাসপাতাল ভবনটি মেরামতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ৫ একর জমির উপর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে নির্মিত হয় দ্বিতল এই ভবনটি। পরবর্তীতে ২০০৯ এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পুরাতন এই ভবনটি ইতোমধ্যে কয়েকবার মেরামতও করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গত ৩-৪ বছর আগে থেকে ভবনের নিচ তলার বেশ কয়েকটি জায়গায় ফাঁটল দেখা দেয়। বর্তমানে সেটি মারাত্মক রূপ নিয়েছে।এদিকে প্রায় ২ বছর আগে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের প্রকৌশলীরা পরিদর্শনের পর ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে একধিকবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের নিচ তলার কয়েকটি পিলারসহ দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাঁটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি জায়গায় ছাঁদের অংশ খসে পড়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। নতুন করে আরও বেশ কয়েক জায়গায় ফাঁটল ধরতে শুরু করেছে। দোতলার সিঁড়ির সামনের পিলারসহ অনেক জায়গা ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে ছাঁদের বড় অংশ। এছাড়া খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা। যা রোগীদের ওয়ার্ড গুলোকে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে।
উপজেলার বাঐসোনা গ্রাম থেকে রোগী নিয়ে আসা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও জীবন বাঁচাতে এক প্রকার দায়ে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে আসতে হচ্ছে। সমস্যাটির দ্রুত সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক বলেন, ভবনটি অনেক আগেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তখনই এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীসহ রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. নাসিমা আক্তারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোশ কর্মকার বলেন, ঝুঁকিপূর্ন ভবনটি অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
