‘মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না, তার লাশ নিয়ে ফিরছি’
×
আফরিন
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২২ | ০৭:১৩ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২২ | ০৭:৫৮
ট্রাক চাপায় আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের শিক্ষার্থী আফরিন (৭) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সে মারা যায়। আফরিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা দপ্তরের পিয়ন আজিজুল হক নগরীর মতিহার থানার রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার সকালে বাবার সঙ্গে স্কুলে যাবার সময় খড়খড়ি বামনশিখর এলাকায় বাবা আজিজুল হকের অপেক্ষমান মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় কয়লা বোঝাই একটি ট্রাক। এতে আফরিন ও তার বাবা গুরুতর আহত হন। আফরিনের একটি পায়ের ওপর দিয়ে ট্রাকটির চাকা যাওয়ায় তার অবস্থা খারাপ ছিলো। তাদের প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা খারাপ হলে দুজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়।
আফরিনের বাবা আজিজুল হক মোবাইলে জানান, রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তির পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার একটি পা কেটে ফেলা হয়। পরে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই আফরিন মারা যান।
আজিজুল বলেন, 'মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না। তার লাশ নিয়ে ফিরছি। আমিও প্রচণ্ড আহত।'
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, শিশুটির দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে মতিহার থানায় চালক ও হেলপারকে আসামি করে মামলা করেছেন। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল আলম বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আজ বেলা ১১টার দিকে পঙ্গু হাসপাতালে শিশুটির পা কাটা হয়। এতে শিশুটির অবস্থা খারাপ। শিশুটিকে তখন সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে সে মারা যায়।
তিনি বলেন, এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যাকাণ্ড।
