খুলনা ওয়াসা
৫ বছরে চার দফা বাড়ল পানির দাম
হাসান হিমালয়, খুলনা
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২২:৩৯
কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই ফের পানির দাম বাড়িয়েছে খুলনা ওয়াসা। গত ১১ ডিসেম্বর ওয়াসার ৬৬তম বোর্ড সভায় ২০ শতাংশ হারে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ওই মাসের বিলের সঙ্গে বর্ধিত দাম যুক্ত করা হয়, যা গত জানুয়ারি মাসে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে চার দফায় পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। ইতোপূর্বে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে অবগত করা হতো। এবার আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তাদের দাবি, হঠাৎ করে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ায় মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে।
এ ব্যাপারে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার সমকালকে বলেন, গ্রাহকসেবা আইন অনুযায়ী সেবার দাম বৃদ্ধির আগে অবশ্যই গ্রাহকদের নিয়ে গণশুনানি করতে হবে। ওয়াসায় এ ধরনের কোনো শুনানি হয়েছে বলে কারও জানা নেই। এ ছাড়া সব এলাকায় এখনও সুপেয় পানি পৌঁছাতে পারেনি ওয়াসা। আমার বাড়িতে এখনও পানির সঙ্গে ময়লা ও পোকা আসে। মানুষকে সঠিক সেবা না দিয়ে সেবার দাম বৃদ্ধির বিষয়টি অন্যায়।
খুলনা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি মাসে বর্ধিত বিলের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানতে পারেন গ্রাহকরা।
সূত্রটি জানায়, ২০১৫ সালে ১ জানুয়ারি চার টাকা ইউনিট ধরে পানির নতুন মূল্য তালিকা অনুমোদন করে ওয়াসা বোর্ড। এরপর দাম বাড়িয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতি ইউনিট চার টাকা ৮০ পয়সা এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতি ইউনিট পাঁচ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়। বর্তমানে প্রতি ইউনিট পানির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় টাকা ৯১ পয়সা। এর সঙ্গে রয়েছে সার্ভিজ চার্জ, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট। এক হাজার লিটার পানি এক ইউনিট হিসেবে গণনা করে ওয়াসা।
পানির দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক খাদেমুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার তুলনায় খুলনায় পানির দাম অনেক কম। কম মূল্যে পানি দেওয়ায় প্রতি মাসে ওয়াসার রাজস্ব আয় ঘাটতি ৮৪ লাখ টাকা। এ অবস্থায় এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক এবং মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।
ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এখন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দিয়ে মেটানো হচ্ছে। নিজস্ব আয় না বাড়ালে মন্ত্রণালয় এ সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এ জন্য পানির দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, আয় বাড়ানোর জন্য পানির দাম না বাড়িয়ে ওয়াসার উচিত নিজেদের খরচ কমানো। গ্রাহকসেবা না বাড়িয়ে দাম বাড়ানো মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়।
- বিষয় :
- খুলনা ওয়াসা
- পানি
- পানির দাম
