মেহেরপুর
কচুরিপানায় ধুঁকছে ভৈরব
খনন করা ভৈরব নদ এভাবেই কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে-সমকাল
ফারুক হোসেন, মেহেরপুর
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২২ | ১২:০০
মেহেরপুরে কচুরিপানায় ভরে গেছে ভৈরব নদ। এতে পানি দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নদটি খনন হয়। খননের পর খরস্রোতা হয়ে আবার জেগে ওঠেছিল। পানিপ্রবাহ বেড়ে গেলে গোসল, কাপড় ধোয়া, রান্নার কাজে ব্যবহার করছিলেন স্থানীয়রা। প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমি পাচ্ছে সেচসুবিধা।
সরেজমিন দেখা যায়, দেখে মনে হবে পুরো নদজুড়ে সবুজে ঘেরা কোনো মাঠ অথবা লেকে চলছে কচুরিপানা প্রদর্শন। কোথাও পানির দেখা নেই। কচুরিপানার পচা গন্ধ বের হচ্ছে পানি থেকে।
সদর উপজেলার হিতিমপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবী আবু হেনা বলেন, 'ভৈরব খনন করার পর মাছ শিকার করে সংসার ভালো চলছিল আমার। প্রতিদিন গড়ে হাজার টাকার ওপরে আয় হতো। তবে কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় আর মাছ পাচ্ছি না।'
মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের আশাদুল ইসলাম বলেন, খনন করার পর নদীতে জেলা মৎস্য অফিস থেকে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ নানা ধরনের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হতো। এসব মাছ শিকারও করা যাচ্ছিল। তবে পানি নষ্ট হয়ে এসব মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
নদীপাড়ের গ্রাম চাঁদপুরের গৃহিণী নুরজাহান বেগম বলেন, 'নদীর পানি দিয়ে রান্নাসহ থালাবাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহার করছিলাম। কচুরিপানায় ভরে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।'
গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের শিক্ষার্থী ফাহিম মুনতাছির শাওন জানায়, নদীতে এখন আর সাঁতার কাটা যাচ্ছে না। আশপাশের ছোট ভাইবোনেরা সাঁতার শিখতেও পারছে না।
শহরের বাসিন্দা ডা. এম মুকিত জানান, ভৈরব খননের পর জনগণের বেশ সুবিধা হচ্ছিল। বর্তমানে নদীটি কচুরিপানায় ভরে গেছে। পৌরসভার পয়ঃনিস্কাশনের দূষিত পানি ফেলা হচ্ছে এ নদে। তাতে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফলে ভৈরবে গোসল করা, মাছ ধরা একেবারেই বন্ধ। বেড়েছে মশার উৎপাতও। কচুরিপানা অপসারণ করে পানি ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহীনুর রহমান রিটন বলেন, পয়ঃনিস্কাশনে পানি দূষণমুক্ত করে নদীতে ফেলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাহিনুজ্জামান বলেন, জেলার সরকারি নদনদী ও খালবিল খনন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পাউবোর। ভৈরব থেকে কচুরিপানা অপসারণে মেশিন কেনা বাবদ অর্থ চাওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অর্থ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে।
সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, গোপালগঞ্জে মেশিনের সাহায্যে কচুরিপানা উঠিয়ে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সেখানকার ডিসির সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। কাজ শেষ হলে মেশিনটি মেহেরপুরে পাঠাবেন। সেই সঙ্গে মেহেরপুরের জন্য একটি নতুন মেশিন কেনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
