গৃহবধূর জীবনের মূল্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা!
প্রতীকী ছবি
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৩২
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সোনাতুন্দি গ্রামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যাকে ঘিরে সালিশী বৈঠকে প্রায় তিন লাখ টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে নিহতের পরিবার ও পুলশি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে এ সালিশী বৈঠক হয়। তবে অভিযুক্তরা আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বিকার করেছেন।
নিহত গৃহবধূর নাম জেসমিন নাহার (২০)। তিনি মাগুরা সদরের হাজরাপুর ইউনিয়নের বাঁশতৈল গ্রামে আ্বন্ধুল আজিজ বিশ্বাসের মেয়ে।
জানা গেছে, গত মার্চ মাসে শ্রীপুরের সব্দালপুর ইউনিয়নের সোনাতুন্দি গ্রামের আবু কালাম মোল্যার ছেলে রেন্টু মোল্যার (৩০) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রেন্টু সম্প্রতি ব্যবসায়িক কাজে ২ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য জেসমিন ও তার পরিবারকে চাপ দিচ্ছিল। যৌতুক দিতে না পারায় সোমবার সকালে জেসমিনকে মারধর করে রেন্টু। এতে অভিমানে তিনি ওই রাতেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মঙ্গলবার সকালে জেসমিনের বাবা অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবীতে তার মেয়েকে রেন্টুসহ তার পরিবারের লোকজন মরপিট ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এখন তারা বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে এই যৌতুক দাবি ও আত্মহত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে দেনদরবার শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সব্দালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল হোসেন মোল্যা, হাজরাপুর ইউনয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন, শ্রীপুর থানার এসআই জাহাঙ্গীসহ স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বররা জেসমিনের বাবাকে নিয়ে সোনাতুন্দি গ্রামে রেন্টুর বাড়িতে সালিশে বসেন।
সালিশে উপস্থিত এক ব্যাক্তি জানান, বৈঠকে জেসমিনের পরিবারকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও এসআই জাহাঙ্গীরকে দুই পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে ২০ হাজার হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টির মিমাংসা করা হয়।
স্বাদালপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর খবির হোসেন সালিশের এ বিষয়টি স্বিকার করেন। তবে অভিযোগের বিষয় এডিয়ে গিয়ে সব্দালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হোসেন মোল্যা বলেন, তিনি সালিশের এক পর্যায়ে সেখান থেকে চলে আসেন। তবে শুনেছেন সামান্য কিছু লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে।
হাজরাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, বিষয়টি আত্মহত্যা হওয়ায় জেসমিনের পরিবার কোন আইনী পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বিয়ের সময় স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য খরচ বাবদ জেসমিনের বাবাকে ছেলে পক্ষ থেকে কিছু টাকা দেওয়ার কথা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেসমিনের স্বামী রেন্টু মোল্লা ও শ্বশুর আবু কালামের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ধরেননি। অন্যদিকে জেসমিনের পরিবার জানায়, তারা প্রথমে ঘটনাটিকে হত্যা মনে করলেও পরে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। যে কারনে বিষয়টি তারা মিমাংসা করে ফেলেছেন।
শ্রীপুর থানার এসআই জাহাঙ্গীর ও ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, তারা অনেক চেষ্টা করেও মরদেহের ময়নাতদন্ত করাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে সালিশে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তারা অস্বীকার কারেন।
পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, কোন অভিযোগ নেই মর্মে জেসমিনের মা-বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- মাগুরা
- শ্রীপুর
- গৃহবধূ
- আত্মহত্যা
- অবৈধ লেনদেন