খুলনায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬০০ ঘর, উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ
খুলনা নগরীর মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় উপড়ে গেছে ছোট-বড় গাছ- সমকাল
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ০৫:৩৪ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ০৫:৩৪
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে খুলনায় ১ হাজার ৬০০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ। তবে জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় মৎস্য সম্পদের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় কিছু এলাকার আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর জেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের প্রাথমকি সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা, ৩০ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে খুলনার ৫৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০ হাজার ১৩০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। ১১৬টি মেডিকেল টিম ও ৫ হাজার ২৮০ জন সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক তাদের সেবা করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে আধাপাকা ও কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। গ্রামের সড়কের ওপর অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে আছে। নগরীর ভেতরেও আধাপাকা ঘরের টিনের চাল ও ফুটপাতের দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা জেলা প্রশাসনের তথ্যে আসেনি। সোমবার দিনভর বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকালে অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার সরকার সমকালকে জানান, প্রাথমিকভাবে জেলায় মোট এক হাজার ৬০০টি ঘর ভাঙার তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘরগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, জেলার মৎস্য ও কৃষিতেও ক্ষতি হয়েছে। তবে তার পরিমাণ খুবই কম। স্ব স্ব দপ্তর সেগুলি নির্ণয় করছে। পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যাবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ জানান, সকাল থেকে চারটি স্থানে ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সকালে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘ঝড়ের সময়ে উপকূলীয় কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলার প্রতি বেশি নজর রাখা হয়েছিল। খুলনাতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে এবারের ঝড়ে জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় মৎস্য ও কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতি খুবই কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পাল বলেন, ‘ঝড়ের কারণে জেলার কোনো মৎস্য ঘের ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তাই মৎস্য ক্ষাতে তেমন কোনো ক্ষতিই হয়নি।’
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘ঝড়ের কারণে আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। মূলত অধিক বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে ধান গাছ নুইয়ে পড়েছে। তবে এখনও তার পরিমাণ নির্ণয় করা হয়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করছেন। এ ছাড়া কৃষির অন্য কোনো খাতে তেমন ক্ষতি হয়নি।’
- বিষয় :
- ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং
- খুলনা
- ঘর ক্ষতিগ্রস্ত
- আমন ধান
