দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড
বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে ৭ কর্মকর্তা
বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২২ | ০৫:০৯
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে তোফাজ্জুর রহমান যোগ দেন ২০১২ সালের ৫ মার্চ। এর পর ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। ১৩ সেপ্টেম্বর বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগদান করেন। তবে পদোন্নতি প্রজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী, তিনি ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে আগের পদেই কর্মরত। এভাবে একই চেয়ারে তিনি ১০ বছর ধরে রয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক একই পদে তিন বছরের বেশি সময় থাকতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, সমগ্র চাকরি জীবনে কেউ ছয় বছরের বেশি দপ্তর/অধিদপ্তর/সংস্থা/প্রকল্পে কর্মরত থাকতে পারবেন না। কিন্তু এই শিক্ষা বোর্ডে তিন বছরের বেশি সময় কর্মরত সাত কর্মকর্তা।
গত ১৪ আগস্ট দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়। সেই প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
২০২০ সালের ২ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সরকারি কলেজ-২ শাখার সচিব মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত 'সরকারি কলেজের শিক্ষক বদলি/পদায়ন নীতিমালা-২০২০' প্রকাশিত হয়। নীতিমালার ১০ ধারায় বলা হয়েছে, 'কোনো কর্মকর্তা দপ্তর/অধিদপ্তর/সংস্থায় একটানা ৩ বছরের বেশি কর্মরত থাকতে পারবেন না। তবে প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল পর্যন্ত বিবেচ্য হবে।'
১১ ধারায় বলা হয়েছে, 'কোনো কর্মকর্তাকে একটি দপ্তর থেকে বদলি করে অন্য দপ্তরে সরাসরি বদলি করা যাবে না। মধ্যবর্তী সময়ে তাঁকে কোনো কলেজে নূ্যনতম ৩ বছর শিক্ষকতা করতে হবে।'
১২ ধারায় বলা হয়েছে, 'একজন কর্মকর্তা সমগ্র চাকরি জীবনে ৬ বছরের বেশি দপ্তর/অধিদপ্তর/সংস্থা/প্রকল্পে কর্মরত থাকতে পারবেন না।'
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা থাকলেও '৩ বছর' কথাটির ব্যত্যয় ঘটেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে। গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদে তিন বছরের
বেশি সময় ধরে চাকরি করছেন কর্মকর্তারা। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতি মাসে তাঁদের ব্যাপারে তথ্য পেয়ে থাকে।
ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ বোর্ডে কলেজ পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক ফারাজ উদ্দিন তালুকদার। তিনি ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। ৫ আগস্ট তাঁকে মাউশি অধিদপ্তরে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়। এরপর থেকে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগের পদেই কর্মরত তিনি।
একইভাবে বছরের পর বছর কর্মরত রয়েছেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অধ্যাপক) হারুন অর রশীদ মণ্ডল, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সহকারী অধ্যাপক) মানিক হোসেন ও সহকারী সচিব (সহকারী অধ্যাপক) ইব্রাহিম আজাদ, কলেজ পরিদর্শক (সহযোগী অধ্যাপক) আব্দুল মান্নান এবং বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
