ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জে তিন ধর্ষণ মামলায় আসামিদের দণ্ড-জরিমানা

সুনামগঞ্জে তিন ধর্ষণ মামলায় আসামিদের দণ্ড-জরিমানা
×

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ০২:২৭ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ০৪:৫৮

সুনামগঞ্জে তিন ধর্ষণ মামলায় রায়ে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড ও জরিমানা করেছেন আদালত। এর মধ্যে জেলার দিরাইয়ে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় চালকের পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চার জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং আরেকটি ধর্ষণের ঘটনায় এক জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, আরেক আসামির ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১ টায় জেলার নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই পৃথক তিনটি মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের দায়িত্বশীলরা জানান, জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দীগেন্দ্র বর্মন ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী একটি এনজিওতে চাকুরি করতেন। ২০১২ সালের ৩১ আগস্ট দুপুরে অফিসের কাজে তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরে আসেন তিনি। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে আসামি আনোয়ার হোসেন তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে বেড়ানোর কথা বলে তাহিরপুর সীমান্তের শাহ্ আরেফিন মোকামের পাশে নিয়ে যায়। পরে মোকামের পাশের আখক্ষেতে নিয়ে ভয় দেখিয়ে তাকে  ধর্ষণ করে। এ সময় হঠাৎ করে আসামি শয়ফুল্লাহ, সাইদুর রহমান ও শফিকুল সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে ঘেরাও করে। একপর্যায়ে আসামি আনোয়ার হোসেনকে বেঁধে ওই ছাত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন তারা। আসামি সেলিম, আনোয়ারুল আজিম আকাশ, মাফিনুর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের সেই ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। পরে থানায় মামলা দায়ের হয়। আসামি শফিকুল, শয়ফুল্লাহ ও ছাইদুর রহমান ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি  দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। মামলা চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ আট জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করেন। সাক্ষ্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত আসামি আনোয়ার হোসেন খোকন, শয়ফুল্লাহ, ছাইদুর রহমান ও শফিকুলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।  জরিমানার টাকা ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেওয়ার কথা বলেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, দুই বছর আগে দিরাইয়ে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে নির্যাতনের আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিকে বৃহস্পতিবার কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর দিরাই শহরের মজলিশপুর গ্রামের ওই শিক্ষার্থী সিলেটের লামাকাজী থেকে নিজ বাড়ি আসার সময় বাসে উঠেন। গাড়িটি দিরাই সড়কের মাথায় এলে তিনি বাস থেকে নামার চেষ্টা করেন। এসময় চালক শহিদ মিয়া  কৌশলে তাকে নামতে না দিয়ে বাস চালাতে থাকেন। ওই তরুণীকে পুনরায় দিরাই নিয়ে নামিয়ে দিবে জানান চালক। গাড়িতে তখন আর কোন যাত্রী ছিল না। গাড়িটি কাঠইর ব্রিজ পার হওয়ার পর চালক হেলপারকে গাড়ি চালাতে দিয়ে তরুণীর পাশের সিটে জোরপূর্বক বসে পড়েন এবং তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয। মেয়েটি তার ভ্যানিটি ব্যাগ নিতে চাইল চালক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।  মেয়েটি তখন নিজেকে বাঁচাতে দরজার কাছে এসে লাফ দিয়ে পড়ে যান। পরে অন্যরা এসে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং তার আত্মীয় স্বজনকে খবর দেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে, আসামি ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। শেষে রাষ্ট্রপক্ষ নয় জন জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত বৃহস্পতিবার শহিদ মিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই জরিমানার টাকা ভিকটিম পাবেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।

সুনামগঞ্জের ছাতকের আরেকটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনায় আসামি ইকবাল হোসেন নামের একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং আসামি জয়নাল আবেদীনকে  ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দিয়েছেন একই আদালত। অনাদায়ে তাদেরকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়,  ২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টার দিকে ছাতকের মোহনপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকেই ভুক্তভোগী তরুণীকে আসামি জয়নাল আবেদীনের সহযোগিতায় অপহরণ করে সিলেটে নিয়ে যান আরেক আসামি ইকবাল হোসেন । সেখানে নিয়ে ওই তরণীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে নির্যাতিতা থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় চার জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত আসামিদেরকে সাজা দেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু আদালতের পিপি নান্টু রায় বললেন, তিনটি রায়েই রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। নির্যাতিত বাদীরা ন্যায় বিচার পেয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় বাদীপক্ষের কাউকে আদালত প্রাঙ্গণে দেখা যায় নি।

আরও পড়ুন

×