ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

৩৮ দিন পর কবর থেকে তোলা হলো লাশ

৩৮ দিন পর কবর থেকে তোলা হলো লাশ
×

ছবি: সমকাল

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২২ | ০২:১৬ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২২ | ০২:২৬

মাগুরার মহম্মদপুরে বড়রিয়া গ্রামের আবু বক্কার শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর ৩৮ দিন পর কবর খুড়ে তার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। বাবাকে হত্যার অভিযোগে তার বড় ছেলে সিজান মাহমুদ সাগর বাদী হয়ে তার মা ও মামাসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর বুধবার সকালে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাসুদেব কুমার মালো, সংশ্লিষ্ট কাজে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কবর খুড়ে লাশ উত্তোলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ধোয়াইল গোরস্তানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর ভোরে মারা যান আবু বক্কার শেখ। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর সৌদিতে ব্যবসা করতেন। এ কারণে এলাকায় তিনি ‘ধনী বক্কার’ নামে পরিচিত। তিনি সৌদিতে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী স্থানীয় রকিবুল ইসলাম হিরকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অনেকবার তাকে নিষেধ করলেও তিনি তা শোনেননি। এক মাস আগে আবু বক্কারের স্ত্রী কথিত ওই প্রেমিকের সঙ্গে নিরুদ্দেশ হন। এক সপ্তাহ পর বাড়িতে ফিরে আসলে তার স্বামীসহ কয়েকজন তার নিরুদ্দেশ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্বামীকে খুন করার হুমকি দেন। ঘটনার একদিন আগে আবু বক্কারের শ্যালক মাছুদুর রহমানের বাড়িতে আসামিরা বসে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে মোতাবেক ঘটনার দিন গত ২ অক্টোবর ভোর রাতে আবু বক্কারকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর আসামিরা তড়িঘড়ি করে বক্কার শেখের লাশ দাফন করে দেয়।

মামলার বাদী সিজান মাহমুদ সাগর জানান, বাবার লাশ দাফনের পর বিশ্বস্ত কয়েকজনের কাছে বাবা মারা যাওয়ার রহস্য জানতে পারেন। বক্কার শেখ মারা যাওয়ার ১০ দিন পর গত ১১ অক্টোবর তিনি মাগুরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বাদীর মায়ের কথিত প্রেমিক রকিবুল ইসলাম হিরককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে তার মা সিমা পারভীনকে। ৫ নম্বর আসামি করেছেন আপন মামা মাছুদুর রহমানকে। এই মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত রয়েছেন আরও ৪-৫ জন। মৃতের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের কথাও বলা হয়েছে মামলায়।

গত ১২ অক্টোবর মহম্মদপুর আমলী আদালত মাগুরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মু. হাবীবুর রহমান দরখাস্তটিকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করে পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের জন্য মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার খবর পেয়ে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অসিত কুমার রায় বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কবর খুড়ে লাশ উত্তোলন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

×