ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

দেবতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওয়ানগালা উৎসব

দেবতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওয়ানগালা উৎসব
×
×

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ২৩:৫৯

সাংসারেকদের শস্য দেবতা হচ্ছেন মিসি সালজং। যে কোনো নতুন ফসল তোলার আগে সাংসারেকরা দেবতাকে ধন্যবাদ ও অর্চনা করেন। ক্ষতিকর কিছু থেকে ফসল রক্ষায় দেবতাকে অর্চনার মাধ্যমে পালিত হয় গারো সম্প্রদায়ের ওয়ানগালা উৎসব, যা গারো নবান্ন উৎসব হিসেবেও পরিচিত।

গারোদের আদি ধর্ম সাংসারেক। এ ধর্মীয় রীতিতে ময়মনসিংহ নগরীতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ওয়ানগালা। গতকাল শুক্রবার ছিল শেষ দিন। নগরীর ভাটিকাশর দ্য আচিক কো-অপারেটিভ সোসাইটি মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উৎসব শুরু হয়।
ওই দিন বিভিন্ন প্রতিযোগী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকালই ছিল মূল আয়োজন। সকালে গারো রীতিতে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানিয়ে শুরু হয় নবান্নের আয়োজন। ওয়ানগালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নকমা (গ্রামপ্রধান) অর্পণ যেত্রা। তিনি উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। পরে অতিথিদের বক্তব্য, চিত্রাঙ্কন, খেলাধুলার পুরস্কার বিতরণী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র?্যাফেল ড্রর মাধ্যমে পর্দা নামে উৎসবের। ওয়ানগালা উপলক্ষে মাঠে বসে মেলা। ১৭টি স্টলে গারো সংস্কৃতির বিভিন্ন জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে বসেন বিক্রেতারা। শিশুরা বর্ণিল পোশাক পরে উৎসবে অংশ নেয়। নতুন প্রজন্ম পরিচিত হয় আদি সংস্কৃতির সঙ্গে।

সুমন রুরাম আপেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওয়ানগালা উৎসব কমিটির আহ্বায়ক প্যারিস চিসিম, কমিটির উপদেষ্টা মার্টিন মানকিন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার প্রশান্ত চিরান, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ময়মনসিংহ শহর শাখার সভাপতি অরণ্য ই চিরান, গারো হাউজিং সোসাইটির সভাপতি ধীরেন সাংমা, ঢাকা এলাকার নকমা অন্তর মানকিন প্রমুখ।

দুপুরে শুরু হয় শস্য দেবতা মিসি সালজংকে ধন্যবাদ ও অর্চনার আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিত নরেশ মৃ পাঁচ সদস্যের একটি দল নিয়ে অর্চনা পরিচালনা করেন। নতুন ধান, হলুদ, কুমড়াসহ কয়েক প্রজাতির ফসল দেবতাকে উৎসর্গ করা হয়। ফসলকে খারাপ কিছু থেকে রক্ষায় মোরগ দিয়ে রাকাশি পূজা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়। নারীরা নৃত্য করেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইকি মানকিন বলেন, ওয়ানগালার মাধ্যমে আদি সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি জানতে পারছেন। এটি এ শহরে প্রথমবার হচ্ছে। প্রতিবছর যেন হয়।

উৎসবের আহ্বায়ক প্যারিস চিসিম বলেন, গারোদের আদি সংস্কৃতি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
এটি এক মিলনমেলা। প্রতিবছর এ আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।

আরও পড়ুন

×