নিবন্ধন, চিকিৎসক ও নার্স ছাড়াই সেবা
বেগমগঞ্জের দুই চক্ষু হাসপাতালে তালা
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান - সমকাল
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০:৫১ | আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০:৫১
নিবন্ধন, এমবিবিএস ডাক্তার ও ডিপ্লোমা নার্স ছাড়াই চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণা করে আসছিল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দুটি হাসপাতাল।
বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠান দুটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারা এবং রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ চোখের ড্রপ দেওয়ার অভিযোগে হাসপাতাল দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বেগমগঞ্জ অন্ধকল্যাণ চক্ষু হাসপাতাল ও বেগমগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আরাফাত।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. জাবেদ হোসেন বলেন, দুটি হাসপাতালই ১০ শয্যাবিশিষ্ট। বাইরে বড় বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দীর্ঘদিন তারা চিকিৎসাসেবার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। অভিযানে গিয়ে প্রমাণও পাওয়া যায়। যদিও ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি ক্লিনিকে একজন এমবিবিএস ডাক্তার ও তিনজন ডিপ্লোমা সেবিকা থাকার কথা। কিন্তু অভিযানে গিয়ে হাসপাতাল দুটিতে কোনো ডিউটি ডাক্তার ও ডিপ্লোমা নার্স পাওয়া যায়নি। ফার্মেসিতে থাকা এবং হাসপাতালে আসা চোখের রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ চোখের ড্রপ দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। অথচ শুধু ভিজিটই নেওয়া হচ্ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এ সময় বেগমগঞ্জ অন্ধকল্যাণ চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক ইয়াছিন আহম্মেদকে এক লাখ এবং বেগমগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক তোফায়েল আহাম্মদকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, ১৫ দিন আগে জেলার চৌমুহনীতে অভিযান চালিয়ে মা ও শিশু হাসপাতাল নামে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- প্রতারণা
- চিকিৎসাসেবা
- নোয়াখালী
- বেগমগঞ্জ
- হাসপাতাল
