জনদুর্ভোগের দায় নেবে কে
সেতু ভাঙার দেড় বছরেও শুরু হয়নি নির্মাণকাজ
সোনারগাঁয়ের আমবাগ খালের ওপর সেতুটি ভেঙে ফেলা হয় দেড় বছর আগে। সম্প্রতি পাশের সংযোগ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে ক্রসিং করতে দেখা যায় দুটি অটোরিকশাকে - সমকাল
শাহাদাত হোসেন রতন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ | ০৪:০২
২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় ভেঙে ফেলা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আমবাগ খালের ওপর নির্মিত সেতুটি। সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হওয়ার কথা ছিল নির্মাণকাজ। ২০২২ সালের নভেম্বরে কাজ শেষের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। অথচ দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও ওই সেতুর কাজ ধরতেই পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস সরকার। এতে আশপাশের ৬০ গ্রামের মানুষকে দুঃসহ ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে।
আমবাগ বাজারে কথা হয় অটোরিকশাচালক মফিজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুই পাড়ে যাত্রী নামিয়ে খালি অটো নিয়ে পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক পার হয়ে মূল সড়কে উঠতে হয়। ওই সড়কেও রয়েছে গর্ত।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁয়ের বসতল-পেরাব সড়কে জামপুর ইউনিয়নের আমবাগ খালের ওপর সেতুটি নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস সরকার। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৪৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ২০২২ সালের নভেম্বরে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সূত্র জানায়, কাজ পাওয়ার পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগের সেতুটি ভেঙে ফেলে। তবে কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পাইলিং ছাড়া আর কিছুই হয়নি।
কাহেনা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, আমবাগ সেতু ভাঙার প্রায় দেড় বছর হতে চলল। এখনও নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ দেখছেন না। এর জন্য সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকাকে দায়ী করেন তিনি।
পেরাব এলাকায় বাংলার তাজমহল ও বাংলার পিরামিডের অবস্থানের কারণে বসতল-পেরাব সড়কটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে তাজমহল রোড হিসেবে। ওই প্রকল্পের পরিচালক সিরাজউদৌল্লাহ উজ্জ্বল বলেন, প্রতিদিন তাঁদের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দেশ-বিদেশের নানা বয়সী শত শত পর্যটক আসেন। তাঁদেরও আমবাগ সেতুটির কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয়।
জামপুর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া জানান, মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা। তাঁরা সেতুটি ভেঙে রড ও মাটি বিক্রি করে দেন।
বিষয়টি স্বীকার করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস সরকারের স্বত্বাধিকারী বুলবুল আহম্মেদ। তিনি বলেন, সেতু ভাঙার পর পাইলিংয়ের জন্য সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পাইলিং শেষ হয়েছে। খালে পানি থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। শিগগিরই তাঁরা কাজ শুরু করবেন।
এলজিইডির সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী আরজুরুল হক বলেন, 'ওই কাজ নিয়ে ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করছেন। আমরা দ্রুত কাজটি শুরু করতে তাগিদ দিয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু না করলে তাঁদের দরপত্র বাতিল করা হবে।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ান-উল-ইসলাম জানান, আমবাগ সেতু নির্মাণ শুরু না হওয়ায় জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা শুনেছেন। দ্রুত এ বিষয়ে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
