ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জনদুর্ভোগের দায় নেবে কে

দুই বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক

দুই বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক
×

ধামরাইয়ের নওগাঁও-কেষ্টি এলাকার গাজীখালি নদীর সেতুতে বাঁশের মই দিয়ে ওঠানামা করছেন পথচারীরা। সেতুর উত্তর পাশ থেকে শুক্রবার তোলা - সমকাল

মোকলেছুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা)

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ | ০৪:১৪

সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। এখনও হয়নি দু'পাশের সংযোগ সড়ক। ফলে ঢাকার ধামরাইয়ের গাজীখালি নদীর ওপর নির্মিত সোয়া চার কোটি টাকা ব্যয়ের সেতুটি ব্যবহারে ভয়াবহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। স্থানীয়দের উদ্যোগে ২৫ ফুট উঁচু বাঁশের মই বেয়ে উঠতে হয় সেতুটিতে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ চিত্র দেখা মেলে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের নওগাঁও-কেষ্টি এলাকায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নওগাঁও, বাথুলী, বালিথা, ভাটারখোলা, বারপাইকা, কেষ্টিসহ ১০-১২টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ গাজীখালি সেতু ব্যবহার করে। বর্তমানে প্রতিদিন তাদের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের মই বেয়ে সেতুতে ওঠানামা করতে হয়। যানবাহন চলাচল দূরের কথা; একটি সাইকেলও পার করা যায় না। কাজকর্মের সরঞ্জাম, কৃষিপণ্যসহ নানা ধরনের মালপত্র কাঁধে করে ওঠাতে হয়।

সেতুটির উত্তর পাশে পড়েছে নওগাঁও বাজার, নওগাঁও আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ও নওগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়গুলোতে আসা-যাওয়া করার সময় শিক্ষার্থীদের আতঙ্কে থাকতে হয়। এর দক্ষিণ পাশে পড়েছে কেষ্টি গ্রাম।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার ২৭১ টাকা। ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এর কাজ শুরু করে মেসার্স জয়েন্ট ব্রিকস ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদের নিমৃঅণ শেষ করার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারের গাফিলতিতে দ্বিগুণ সময় লাগে। এর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তারা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দেয়নি।

নওগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী আয়নাল হক বলেন, 'দিনে পাঁচ-ছয়বার সেতু পার হতে গিয়ে যে কষ্ট করতে হচ্ছে; এতে মনে হয়, এর চেয়ে জেল খাটা ভালো।'

কেষ্টি গ্রামের আমেনা বেগমের মেয়ে পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি বলেন, সেতু পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেন তাঁরা। মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন।

আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিয়াম উদ্দিন বলেন, বাঁশের মই বেয়ে সেতুতে উঠতে গিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। যে কারণে অনেকে ভয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।

সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শফিউজ্জামান স্বপন বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণে তাঁরা ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে গুরুত্বই দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে দুটি মই বসিয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ব্রিকস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম পাপ্পুর ভাষ্য, নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামাণিক বলেন, তিনি এখানে যোগ দিয়েছেন সম্প্রতি। সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারকে তাগাদা দেবেন। দ্রুতই এ সমস্যা সমাধানের আশা করছেন।

আরও পড়ুন

×