তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলি, আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা বসতিতে আগুন
কোনারপাড়া এলাকায় পাহাড়ে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য। ছবি: সমকাল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৬:১৩ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৬:৪৩
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্ত্মের শূন্যরেখায় অবস্থিত কোনারপাড়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মিয়ানমারের দুই সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। আজ বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া গোলাগুলি সন্ধ্যা ৬টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শূন্যরেখার ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ। এদিকে এ ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী।
ওসি মোহাম্মদ আলী জানান, হামিদ উল্লাহ (২৭) ও মহিবুল্লাহ (২৫) নামের গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তিকে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক হামিদ উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। মহিবুল্লাহকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল থেকে গোলাগুলি হলেও বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শূণ্যরেখায় হঠাৎ আগুন জলে ওঠে। পুরো এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শূন্যরেখায় বেশকিছু রোহিঙ্গা বসতি পুড়ে যায়। এরপর সন্ধ্যার দিকে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সীমায় ঢুকে ঘুমধুম এবং উখিয়ার বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেয়।
রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ সমকালকে বলেন, ‘মিয়ানমারের দুই সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে সকাল থেকে গোলাগুলি শুরু হয়। তারা কোনারপাড়া শূন্যরেখা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ছড়িয়ে পড়ে।’ এ সময় র্যাব সদস্যরাও গুলিবর্ষণ করে বলে জানান এই রোহিঙ্গা নেতা।
দিল মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে হতাহতের ঘটনা এখনও নিশ্চিত নয়। গোলাগুলির ঘটনায় ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’
বুধবার সকাল থেকে অব্যাহত গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘সীমান্তে কী হচ্ছে তা বলা যাচ্ছে না। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমেন শর্মা বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে সকাল থেকে তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় থেমে থেমে গোলাগুলির খবর জেনেছি। তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি শূন্যরেখায়, সেখানে আন্তর্জাতিক রীতি মতে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই। তারপরও সীমান্তের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রশাসনের তরফ থেকে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।’
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে আরসার সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে আরসার এক শীর্ষ নেতার স্ত্রীসহ তিনজনকে বিজিবি আটকের ঘটনায় বিজিবির বিওপি লক্ষ্য করে আরসার সদস্যরা কয়েকশ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে বিজিবিও গুলি চালায়।
তবে মঙ্গলবার রাতে বিজিবির কক্সবাজার-৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘বালুখালী বিওপি থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে এবং সীমান্ত পিলার-২০ থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ উত্তর-পূর্ব কোণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রহমতের বিল হাজিরবাড়ি নামক এলাকায় কিছু ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ইয়াবা কারবারিদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ঘটনার পর থেকে সব বিওপি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।’
