দুই বছরে সাত শতাধিক দুর্ঘটনায় শেষ ৮০০ প্রাণ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন ব্যস্ততম নিমসার বাজার। ফুট ওভারব্রিজ না থাকায় এভাবেই ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হন স্থানীয়রা। সোমবারের ছবি সমকাল
কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৫:৩৪
দেশের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কগুলোর বড় অংশই গেছে কুমিল্লা হয়ে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এসব সড়ক তদারকির দায়িত্বে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চল। তাঁদের হিসাব বলছে, গত দুই
বছরে এ অঞ্চলের আওতাধীন ৭৮০ কিলোমিটার সড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে। এ সময় সাত শতাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৮০০ মানুষ।
পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালে এ অঞ্চলে ৩২৭ সড়ক দুর্ঘটনা নিহত হয়েছেন ৩৪৭ জন। আগের বছর ৪৪১ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছিল ৪৪৪ জনের। গত বছর নিহতদের মধ্যে ১৩০ জন ছিলেন পথচারী। এর মধ্যে ২০২২ সালে শুধু কুমিল্লা জেলায় ১৪২ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫১ জন।
হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানা যায়, এ অঞ্চলের অধীনে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, কুমিল্লা-সিলেট সড়কের হবিগঞ্জ পর্যন্ত, কুমিল্লা-চাঁদপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কসহ ৭৮০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কে রয়েছে ৫৪টি বিপজ্জনক ইউটার্ন, ফিডার রোড (মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়া গ্রামীণ সড়ক) ৫২৭ কিলোমিটার, সিএনজি স্টেশন ১০৪টি, মহাসড়ক-সংলগ্ন বৈধ ইজারা দেওয়া হাট-বাজার ২২টি, গার্মেন্ট ও শিল্পকারখানা ৭০টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯২টি, হাসপাতাল-ক্লিনিক ১৯টি, বাসস্টেশন ৭১টি এবং ৩৪টি ফুটওভার ব্রিজ।
হাইওয়ে পুলিশের সমীক্ষায় এসব সড়কে দুর্ঘটনার জন্য ১০টির বেশি কারণ চিহ্নিত করা হলেও প্রতিকারে সরকারিভাবে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। সমীক্ষা অনুযায়ী, বিপজ্জনক ইউটার্ন, মোটরসাইকেলসহ কম গতির ছোট যানের জন্য আলাদা লেন না থাকা, পাঁচ শতাধিক ফিডার রোড, মহাসড়কের পাশে বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা এবং ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় ঘটছে ৭০ শতাংশ দুর্ঘটনা।
হাইওয়ে পুলিশ বলছে, কম দূরত্বে যাতায়াতের জন্য ব্যস্ততম মহাসড়ক-সড়কে এসে মোটরসাইকেলসহ ছোট যানগুলো বেশি দুর্ঘটনায় পড়ছে। ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও ব্যবহারের প্রবণতা কম। আবার ব্যস্ততম অনেক এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারেও ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং যত্রতত্র যাত্রী উঠানো ও নামানোর জন্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেশ কিছু ইউটার্নে রিফ্লেক্টিভ স্টিকার নেই। এতে রাতে এসব স্থানে দুর্ঘটনা ঘটছে। কিছু ইউটার্নে স্থানীয়রা লাল নিশানও টানিয়েছেন।
হাইওয়ে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনে মহাসড়কের আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কম দূরত্বে চলাচলে একমাত্র ভরসা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন। আলাদা লেন না থাকায় দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসব যান চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটায়। তাই সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আলাদা লেন তৈরি জরুরি।
কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, সড়ক-মহাসড়কে ছোট যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ কিংবা এদের জন্য আলাদা লেন করার দাবি দীর্ঘদিনের। জাতীয়ভাবে এসব সমস্যা সরকারের নজরে আনা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
সওজ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীত চাকমা বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ইউটার্নগুলোতে রিফ্লেক্টিভ স্টিকার ভেঙে যাওয়ায় লোকজন সেগুলো নিয়ে গেছে। বর্তমানে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কারকাজ চলছে। শেষ হলে রোড সাইন স্থাপন করা হবে।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের এসপি মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত অভিযান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও চালকদের প্রশিক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। ছোট যানের জন্য আলাদা লেন হলে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।
