বৃহত্তর ময়মনসিংহের যাত্রীদের ভোগান্তি
গরিবের বাহন ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস ট্রেন বন্ধ
কিশোরগঞ্জ অফিস
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২০ | ০৮:৩২
গরিবের বাহন হিসেবে পরিচিত ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস ট্রেনটি কোনো নোটিশ ছাড়াই বন্ধ করে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার থেকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব-ঢাকা রুটে চলাচলকারী এই লোকাল ট্রেনটি বন্ধ রয়েছে। ৪৮ বছর ধরে ট্রেনটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলাসহ বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলের মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছিল। ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়ায় ওই অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ল। তাই ট্রেনটি ফের চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম বীর ঈশা খাঁর নামে ১৯৭২ সালে ট্রেনটি চালু করা হয়। ট্রেনটি প্রতিদিন ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ, ভৈরব ও নরসিংদী জেলা হয়ে ঢাকায় চলাচল করত। এতে অন্তত পাঁচ-ছয়টি জেলার মানুষ উপকৃত হতেন। ট্রেনটি মেইল ট্রেন হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি মালপত্র ও পণ্য পরিবহনে মানুষের সুবিধা হতো। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের লোকজনই এ ট্রেনে বেশি যাতায়াত করতেন। তাই গরিবের ট্রেন নামেই ট্রেনটি পরিচিত ছিল। ট্রেনটি যাত্রাপথে ৩৪টি স্টেশনে বিরতি দিত এবং আপ-ডাউন হিসেবে প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসত। প্রতিবার অন্তত তিন শতাধিক যাত্রী যাতায়াত করতেন ট্রেনটিতে।
ঈশা খাঁ ট্রেনের একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ হাওর এলাকার খেটে খাওয়া ও সাধারণ যাত্রী, যারা বেশি ভাড়া দিয়ে আন্তঃনগরে চড়তে পারতেন না, তারাই মূলত এ ট্রেনে চড়তেন। ট্রেনটিকে প্রায় পাঁচ দশক ধরে যোগাযোগ ও মাল পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছিলেন তারা। ট্রেনটি বন্ধ হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের মালপত্র পরিবহনসহ চলাচলে ভোগান্তি ও তাদের অর্থব্যয় বাড়বে।
ট্রেনটি বন্ধ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ স্টেশন সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, বন্ধের আদেশ পাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেনটি আর চালানো হচ্ছে না। ট্রেনের কোচগুলোকে ভাওয়াল এক্সপ্রেসে সংযুক্ত করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঠিক কী কারণে ট্রেনটি বন্ধ করা হলো, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
কিশোরগঞ্জ স্টেশন মাস্টার শ্যামসুন্দর দেব শর্মা বলেন, গত ১১ মার্চ কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, ১২ মার্চ থেকে ঈশা খাঁ মেইল ট্রেনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
কিশোরগঞ্জের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার মো. জয়নাল মিয়া বলেন, সাধারণ যাত্রীদের তো সমস্যা হবেই।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম বলেন, গরিবের ট্রেন ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস বন্ধ হওয়ায় অত্র অঞ্চলের গরিব মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পণ্য পরিবহনে বিশেষ করে রাজধানী থেকে অনেকেই টেলিভিশন, ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিকস মালপত্র, মোটরসাইকেল ইত্যাদি এ ট্রেনে করে জেলা শহরগুলোতে নিয়ে আসতেন। ট্রেনটি বন্ধ হওয়ায় সবাই সমস্যায় পড়বে। তাই ট্রেনটি চালু করার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
- বিষয় :
- ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস
- কিশোরগঞ্জ
- ট্রেন
