পার্বত্য বিতর্ক উৎসব
শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে কোনো ঘটতি নাই: উশৈসিং
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ | ১২:৫৯ | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ | ১২:৫৯
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, শান্তিচুক্তির আগে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ পূণিমা রাতের চাঁদ দেখেনি। মনখুলে ধর্মপালনও করা যায়নি। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে কোনো ঘটতি নাই। এটি চলমান প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে বড় বাধা ভূমি সমস্যার নিস্পত্তি। পাহাড়ী অঞ্চলে ভূমির মালিকানা নিয়ে বিদ্যমান সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।
মঙ্গলবার পার্বত্য বিতর্ক উৎসব-২০২৩ এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রামের পরিচালক সাফি রহমান খান।
ব্র্যাক ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র যৌথ আয়োজনে এবং গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডা এর সহযোগিতায় রাজধানীর বিএফডিসিতে আয়োজিত গ্র্যান্ড ফাইনালে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়কে পরাজিত করে রাঙ্গামাটির মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল 'সফলতা অর্জনের জন্য দরিদ্রতা বড় অন্তরায় নয়।' প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ বক্তা হয় মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ের দলনেতা সুজাতা চাকমা।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ী জনপদের মানুষ। এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষগুলো অতি সাধারন জীবন যাপন করে। বেশীরভাগ পাহাড়ী মানুষই কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্ভর করে। কৃষি কাজ প্রধান পেশা হলেও এখনও তাদের ভূমির মালিকানা নিশ্চিতকরণে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। শঙ্কার কথা হচ্ছে ছোট ছোট অনেক নৃ-গোষ্ঠী বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। কয়েকটি নৃ-গোষ্ঠী চাকমা, মারমাসহ অন্যান্যদের সাথে মিশে যাচ্ছে। দেশের ৪৯টি নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে সরকার চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্য পুস্তক ছাপালেও এখনো যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ পাওয়া সম্ভব হয় নাই। তবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থাসহ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে পার্বত্য অঞ্চল।
বীর বাহাদুর উশৈসিং আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ শিল্প ও সংস্কৃতিকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে এখান শিক্ষাদিক্ষাসহ আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। জুম চাষ লাভজনক না হওয়ায় সরকার ইক্ষ্যু চাষ, বাশের চারা রোপন, কাজু বাদাম চাষ, গাভী বিতরণ ইত্যাদি বিনা খরচে পাহাড়ী এলাকার মানুষের জন্য ব্যবস্থা করছে।
প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলকে পুরস্কার হিসেবে ক্রেষ্ট, ট্রফি ও সার্টিফিকেটসহ যথাক্রমে নগদ ৩০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে মোট ৪ লক্ষ টাকা প্রদান করেন।
চ্যাম্পিয়ন দল মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ের তার্কিকরা হলেন দময়ন্তী চাকমা, সুরভী চাকমা ও সুজাতা চাকমা এবং রানারআপ দল নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের তার্কিকরা হলেন-মাওয়েচিং চাক, খোবরাতুল আইন তাহমিন ও সোমাইতা সাদাফ মুমু।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সিনিয়র সাংবাদিক আবুল খায়ের, সাংবাদিক ইশরাত জাহান উর্মি, সাংবাদিক পার্থ সঞ্জয় ও সাংবাদিক নীল মাহাবুব।
