শ্রীনগরের কুকুটিয়া
সালিশে আসা বৃদ্ধ দম্পতির ওপর হামলা আ'লীগ নেতার
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৬:৫৭
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের কুকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সালিশে আসা এক দম্পতির ওপর হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজাউল করিম রেজার নেতৃত্বে এ হামলা হয় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। রেজাউল হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, স্থানীয় কয়েক যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের 'ঝগড়া' হয়। এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে কুকুটিয়া ইউনিয়নের টুনিয়া মান্দ্রা গ্রামের বৃদ্ধ ফজল হক ও তাঁর স্ত্রী জবেদা বেগমকে ১ ফেব্রুয়ারি মারধর করেন একই গ্রামের নূরুল বেপারী ও তাঁর লোকজন। এ ঘটনায় শ্রীনগর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। নূরুল বেপারী ৮ ফেব্রুয়ারি ফের ফজল হককে হুমকি দেন। এতে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে সালিশের জন্য কুকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তপন হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে ফজল হক, তাঁর স্ত্রী জবেদা বেগম ও ছেলে জাবেদকে পরিষদে আনেন। সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবুর সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন।
এর পরপরই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজাউল করিম রেজার নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে ফজল, জবেদা ও জাবেদকে মারধর শুরু করেন। আহত বৃদ্ধ ফজল হকের ভাষ্য, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এ সময় তাঁরা আহত হন।
ইউপি সদস্য তপন হোসেন বলেন, দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার জন্য চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁদের পরিষদ ভবনে ডেকে এনেছিলেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরপরই ওই তিনজনের ওপর হামলা হয়।
রেজাউল করিম রেজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'বিরোধ মীমাংসার জন্য ডেকে আনলেও ফজল হকের স্ত্রী জবেদা বেগম রাজি হননি। পরে আমি ও ইউপি চেয়ারম্যান চলে আসি। এর পর কয়েক যুবকের সঙ্গে তাঁদের ঝগড়া হয়।' তবে কুকুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবু জানান, সালিশ বৈঠকের বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেখানেই ফজল হক ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, 'সালিশ বৈঠকে নারীসহ তিনজনকে মারধরের ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'