বিএনপির ভোটে নজর লিটনবিরোধীদের
সৌরভ হাবিব, রাজশাহী
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৩ | ০৩:৪৩ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৩ | ০৩:৪৩
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষিত হলেও বিএনপি এখনও নীরব। বিএনপির সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এবার কেউই যাবেন না, স্বতন্ত্র প্রার্থীও হবেন না কেউ। তা হলে এবারে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে ছোট ছোট দলের প্রার্থীদের মুখোমুখি হতে হবে। তবে বিএনপির আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী মে মাসে তপশিল ঘোষণার পর বিএনপির চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসতে পারে। তখন দলীয় প্রার্থী না দিলেও কোনো নেতাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করা হতে পারে। যদিও সেই স্বতন্ত্র প্রার্থী কে হতে পারেন, তা নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। শনিবার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পরপরই রাজশাহীতে মেয়র নির্বাচনের আমেজ চলে আসে। বিকেলেই সংবাদ সম্মেলন করে খায়রুজ্জামান লিটন নিজের সাংগঠনিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ সময় রাজশাহী মহানগরকে আরও এগিয়ে নেওয়ার কর্মপরিকল্পনাও তিনি জানান। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিকে ছাড়া ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চান না জানিয়ে তিনি দলটিকে মেয়র নির্বাচনে আসার আহ্বান জানান।
বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলছেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কোনো নির্বাচনে যাবেন না। কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘এই অনির্বাচিত সরকারের অধীনে যেখানে মরা মানুষ ভোট দেয়, সেখানে আমাদের সাধারণ মানুষ ভোটে অংশ নেবে না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কুত্তা, শিয়াল ভোটে অংশগ্রহণ করার পরও তা বৈধ হয়েছে। ’১৮ সালে রাতের ভোটও বৈধ হয়েছে। সরকার নির্লজ্জভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। এই বে-তাল নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি অংশ নেবে না। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ গেলে কেন্দ্র ব্যবস্থা নেবে।’
রাজশাহী সিটি নির্বাচনের মনোনয়নে খায়রুজ্জামান লিটনের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। অশ্লীল ভিডিও ফাঁস হওয়ায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীর তোপের মুখে রয়েছেন। তাঁকে বহিষ্কারের জন্য দলীয় প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানোসহ মানববন্ধনও করেছেন নেতাকর্মীরা। খায়রুজ্জামান লিটনের বিরোধিতা করে মনোনয়ন চাওয়ায় তিনি আরও কোণঠাসা হয়েছেন। নগরের অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তিনি হয়তো স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। তবে ডাবলু সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন না উল্লেখ করে সমকালকে বলেন, ‘মনোমালিন্যের কারণে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তবে দলের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হব না। যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা সমাধান হয়ে যাবে আশা করছি। দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই ভোটে নামব।’
ওদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, ‘মহানগর আওয়ামী লীগের ৯৯ শতাংশ নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ আছি। দু-একজন মাঠে না নামলেও দলীয় প্রার্থীকে আমরা বিজয়ী করতে পারব।’
বিগত সময়ে দেখা গেছে, রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর। এবার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দিচ্ছে না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু সমকালকে বলেন, ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না। কাউকে স্বতন্ত্র প্রার্থীও করা হবে না। আমাদের দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিত্যপণ্যের দাম কমাতে হবে। তবেই আমরা নির্বাচনে যাব।’
বিএনপি না এলে এবার আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে জয়ের জন্য তেমন কোনো পরিশ্রম করতে হবে না। তবে বিনা ভোটেও আসতে পারছেন না। তাঁকে মুখোমুখি হতে হবে ছোট ছোট দলের প্রার্থীদের সঙ্গে। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। গতবার এই দলটি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম।
দলটির রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা তারিক উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘আমরা সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। শিগগিরই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করব। বিএনপি নির্বাচনে না এলে তারা হারিয়ে যাবে। আমরা এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকব। বিএনপি-জামায়াতের ভোট আমরা পাব। তবে আগেই সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর নাম জানাতে পারছি না।’
জাতীয় পার্টির মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীনুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘গতবার জোটকেন্দ্রিক নির্বাচন হয়েছিল। তাই প্রার্থী দেওয়ার পরও দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থী প্রত্যাহার করেছিলাম। এবার জোটকেন্দ্রিক নির্বাচন হবে না। এ ছাড়া এবার বিএনপি ভোটে আসছে না। তাই আমাদের দলীয় প্রার্থী থাকবে। এবার মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন ও সদস্য সচিব ওয়াসিউর রহমান দোলন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।’
জাতীয় পার্টির মহানগর শাখার সদস্য সচিব ওয়াসিউর রহমান দোলন গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন। সমকালকে তিনি বলেন, ‘এবারও আমি মনোনয়ন চাইব। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে ভোট করার জন্য প্রস্তুত আছি।’
রওশনপন্থি জাতীয় পার্টির আরেক নেতা শাহাবুদ্দিন বাচ্চু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন ঘোষণা দিয়ে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ঈদের পর আমেরিকা থেকে ফিরে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
গণসংহতি আন্দোলন গত নির্বাচনে দলটির রাজশাহীর নেতা অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদকে প্রার্থী করেছিল। তবে এবার মুরাদ মোর্শেদ বলছেন, তাঁদের দল এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এটা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। তাই তিনিও এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না।
