ভোলা-বরিশালে ক্ষোভ, প্রতিবাদে লংমার্চ আজ
সুমন চৌধুরী, বরিশাল
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৩ | ০৪:০৮
নাগরিক আন্দোলনের নেতারা বলেন, বরিশালের মানুষ দরিদ্র। এর অন্যতম কারণ এখানে শিল্পকারখানা নেই। ভোলা ও বরিশালে গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা হলে ওই অবস্থা থেকে উত্তোরণ সম্ভব হবে। আজকের লংমার্চের পর বিভাগের ছয় জেলা থেকে ভোলামুখী লংমার্চ হবে বলে জানান তারা।
আন্দোলনের সদস্য সচিব বরিশালের বাসদ নেত্রী ডা. মণীষা চক্রবর্তী বলেন, বাপেক্সের সিদ্ধান্ত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বার্থবিরোধী। এটি এক ধরনের প্রতারণা। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশালের জনসভায় ঘোষণ দেন, ভোলার গ্যাস বরিশালে সরবরাহ করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস রাজধানীতে সরবরাহের দায়িত্ব দিয়ে ইন্ট্রাকোকে অতি মুনাফার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তিনি।
সংগঠনের আহ্বায়ক ভোলা কমিউনিস্ট পার্টি নেতা মোবাশ্বের উল্লাহ বলেন, ভোলার গ্যাস দিয়ে সবার আগে ভোলায় সার কারখানা, ফিশিং জোন, কৃষি জোন এবং একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করতে হবে।
ভোলা উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিতাভ অপু বলেন, ‘২০০৮ সালে ভোলার গ্যাস খুলনায় নেওয়ার পদক্ষেপ প্রতিহত করতে ১২ দিন ভোলা অচল করে দেওয়া হয়েছিল। এবারও গ্যাস নেওয়া প্রতিহত করা হবে।’ তিনি জানান, ভোলা শহরে ১০ হাজার গৃহস্থালিতে গ্যাস সরবরাহে সক্ষম লাইন প্রস্তুত হয়েছে। কিন্তু ৩ হাজার ৩০০ সংযোগ দেওয়ার পর সরকারি সিদ্ধান্তে সংযোগ প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যেভাবে রাজধানীতে যাবে ভোলার গ্যাস
কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) হিসেবে সিলিন্ডার ভরে ভোলার গ্যাস ঢাকার শিল্পকারখানায় পৌঁছে দেবে বেসরকারি কোম্পানি ইন্ট্রাকো। ভোলায় গ্যাস বিপণনে সরকারি প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী ইন্ট্রাকোর কাছে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি করবে ১৭ টাকায়। ইন্ট্রাকো তা ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা দরে শিল্প মালিকদের কাছে বিক্রি করবে। ইন্ট্রাকো ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি হয় গত ২১ মে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালনি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সিএনজি করে গ্যাস বাইরে নেওয়ার নতুন ধারা শুরু হচ্ছে। ভোলার মানুষও অবশ্যই গ্যাস পাবে, এটা তাদের অধিকার। অনুষ্ঠানে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম বলেন, ভোলার মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছে।
আন্দোলনে নেই ব্যবসায়ী নেতারা
বরিশাল-ভোলায় শিল্পকারখানা স্থাপনে সভা-সেমিনারে বেশি কথা বলেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ভোলার গ্যাস রাজধানীতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে নেই তাঁরা। এ প্রসঙ্গে ডা. মণীষা চক্রবর্তী বলেন, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে এই আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মোমিন টুলু সমকালকে বলেন, ভোলার গ্যাস ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে– এটা তিনি জানেন না। তাই এ ব্যাপারে মন্তব্য করবেন না।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু। তিনি বলেন, ‘আমরা ভোলার গ্যাস ঢাকায় নেওয়ার বিরোধী নই। তবে আমাদের চাহিদাও পূরণ করতে হবে। তাই আন্দোলনের সঙ্গে আমরা আছি।’ তিনি বলেন, ‘ভোলা থেকে বরিশালে ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন স্থাপনে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার পরিচালিত সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি।
