স্বরূপকাঠিতে ইউপি উপনির্বাচন
বিজয়ী প্রার্থীকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ, এসআই প্রত্যাহার
বিজয়ী প্রার্থী গাজী মিজানুর রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন নেছারাবাদ থানার এসআই মজিবুল হক। ছবি: সমকাল
পিরোজপুর ও স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৩ | ১৫:৩৫ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৩ | ১৫:৩৫
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার গুয়ারেখা ইউপি উপনির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী মিজানুর রহমানকে ফুলের মালা দেওয়ায় নেছারাবাদ থানার এসআই মজিবুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে পাটকেলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি-সংলগ্ন করফা এলাকায় ওই মালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাতেই ওই এসআইকে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। নেছারাবাদ থানার ওসি জাফর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গুয়ারেখা ইউপিতে সোমবার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ফারজানা আক্তারকে হারিয়ে বিজয়ী হন মিজানুর রহমান। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে পুলিশ ফাঁড়ি-সংলগ্ন করফা এলাকায় নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে প্রার্থীকে নিয়ে উল্লাস শুরু করেন কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় এসআই মুজিবুল হক এগিয়ে গিয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন এবং সেলফি তোলেন। সেই ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফারজানা আক্তার পুলিশ সুপারের কাছে এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে রাতেই নেছারাবাদ থানা থেকে এসআই মজিবুল হককে প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউর রহমান জানান, অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
ফারজানা আক্তারের অভিযোগ, এসআই মজিবুল হকসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা নির্বাচনে মিজানুর রহমানের পক্ষে কাজ করেছেন। ফারজানার স্বামী পলাশ সিকদারের দাবি, নির্বাচনের দিন পুলিশ নৌকার কর্মী-সমর্থকদের লাঠিপেটা করেছে। মিজানুরের সমর্থকরা পাটকেলবাড়ি এলাকায় নৌকার সমর্থক আলমগীর হোসেনকে কুপিয়ে আহত করেন। তা ছাড়া তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়িতেও হামলা চালায়।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে নেছারাবাদ থানার ওসি জাফর আহমেদ বলেন, বীর নিবাসে কোনো হামলা হয়নি। বাড়িটির সামনে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারিতে আলমগীর নামে নৌকার এক সমর্থক আহত হন।
সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া ও লাঞ্ছিত করার বিষয়ে ওসি বলেন, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান গাজী মিজানুর রহমান বলেন, ভিড়ের কারণে অনেকেই শুভেচ্ছা জানাতে পারছিলেন না। এজন্য ওই পুলিশ সদস্য সামনে থাকায় তিনি অন্য একজনের পক্ষে মালা দেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মারধর ও সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা জানা নেই বলে জানান তিনি।
গুয়ারেখা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রব সিকদার গত ৫ এপ্রিল মারা গেলে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়।
