সেই রমেশ মাঝিকে দোকান করে দিলেন জেলা প্রশাসক
রমেশ মাঝির হাতে দোকানের মালামাল তুলে দিচ্ছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান ও নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য। ছবি: সমকাল
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৩ | ০৮:০২ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৩ | ০৮:১৩
শরীয়তপুরের
নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা রমেশ মাঝিকে একটি দোকান নির্মাণ
করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকালে রমেশের হাতে দোকানের চাবি ও মালামাল তুলে
দেন জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান ও নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য।
৫২ বছর ধরে
কীর্তিনাশা নদীতে যাত্রী পারাপার করছেন রমেশ মাঝি। যাত্রী পারাপার করে কারো কাছ থেকে
কোন টাকা নেন না। এ নিয়ে গত ১৬ জুলাই ‘কীর্তিনাশার কীর্তিমান রমেশ মাঝি’ শিরোনামে সমকালে
একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ নজরে আসে শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসানের।
তিনি নড়িয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) পাঠিয়ে রমেশ মাঝির খোঁজ খবর নেন। এরপর তাকে
পুর্নবাসন করতে জপসা ইউপির লক্ষীপুর খেয়াঘাটে দোকান নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নেন।
জেলা প্রশাসক
পারভেজ হাসান সম্প্রতি বরিশালে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে বদলি হয়েছেন। আজ বুধবার
শরীয়তপুরে তাঁর শেষ কর্ম দিবস। তাই তিনি দোকানের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার
লক্ষীপুর গ্রামে গিয়ে নির্মাণাধীন দোকান ঘরের চাবি ও দোকানের মালামাল রমেশ মাঝির হাতে
তুলে দেন।
উপহার পেয়ে
রমেশ মাঝি বলেন, ‘আমার খোঁজ নিতে ডিসি সাহেব আসতে পারেন, আমাকে দোকান নির্মাণ করে দিতে
পারেন, তা ভাবতে পারিনি। এতে আমি অনেক খুশি হয়েছি।’ তিনি জানান, দোকান পাওয়ায় নৌকা
চালানো বন্ধ করে দিলেও সংসার চালানো নিয়ে তাঁকে আর ভাবতে হবে না।
জেলা প্রশাসক
পারভেজ হাসান বলেন, রমেশ মাঝির গল্প শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন। তাঁদের মত নির্লোভ
মানুষ এখনো সমাজে আছেন। এমন মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এমনিতেই চলে আসে। রমেশের
বাকি জীবন যাতে অর্থ কষ্টে না কাটাতে হয়, সেই ভাবনা থেকে তাকে দোকান নির্মাণ করে দেয়া
হয়েছে।
- বিষয় :
- শরীয়তপুর
- নড়িয়া
- কীর্তিনাশা
- রমেশ মাঝি
