‘ইউএনও স্যার বলেছেন টাকা না দিলে ড্রেজার চলবে না’
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০১ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০১
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় টাকার বিনিময়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধভাবে ড্রেজার চলে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে শোনা যায়, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার রনজিৎ মণ্ডলের মাধ্যমে ইউএনও টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়ীদের অবৈধভাবে ড্রেজার চালাতে দিতেন। টাকা দিলে তাদের তালিকা ইউএনওর কাছে দেওয়া হতো। টাকা না দিলে অভিযানে গিয়ে ড্রেজার ভেঙে দিতেন ইউএনও।
ড্রেজার ব্যবসায়ী দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুমনের সঙ্গে রনজিৎ মণ্ডলের অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যের কথোপথনের অডিও সমকালের হাতে এসেছে। এতে রনজিৎ মণ্ডলকে বলতে শোনা গেছে, ‘ইউএনও স্যার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারা টাকা দিলে ড্রেজার চলবে; টাকা না দিলে চলবে না। স্থানীয় সাংবাদিকরা কন্টিনিউ নক করেন স্যারকে। টাকা দিলে স্যারকে হোয়াটসঅ্যাপে লিস্ট পাঠানো হয়। এলাকায় মোবাইল কোর্ট গেলে টাকা দেওয়া ব্যবসায়ীদের ড্রেজার ভাঙা হয় না। যারা টাকা দেন না তাদের অবৈধ ড্রেজার ভেঙে দেওয়া হয়।’
জানা গেছে, দৌলতপুরে অবৈধ ড্রেজার, হাইড্রোলিক ট্রাক্টর, এক্সক্যাভেটর এবং নদীতে বাল্কহেড বসিয়ে মাটি কাটাসহ সব অবৈধ কাজের বৈধতা দেওয়া হয় টাকার বিনিময়ে। রণজিৎ মণ্ডল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে যোগদানের পর থেকেই ইউএনওর হয়ে দেনদরবার করেন।
ড্রেজার ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান কথোপকথনের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্টু মোল্লা বলেন, মাটি কাটার অবৈধ ড্রেজারের ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স। সে ক্ষেত্রে দৌলতপুরের ইউএনও টাকার বিনিময়ে এসব বৈধতা দিয়েছেন।
রনজিৎ মণ্ডলের মোবাইল ফোনে একাধিবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করার কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা অর্নব মালাকার বলেন, কথোপকথনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু জুন মাসেই অবৈধ ড্রেজার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইউএনও আবিদা সুলতানা বলেন, আমি বৃহস্পতিবার (দৌলতপুর থেকে) বদলি হয়ে চলে এসেছি। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
- বিষয় :
- মানিকগঞ্জ
- ফোনালাপ ফাঁস
- ড্রেজার
- ইউএনও
