লক্ষ্মীপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চুরি করে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অভিযোগ
জব্দকৃত চাল- সমকাল
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:৩৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যবান্দব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির ২৯ বস্তা চাল অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে চালের ডিলার আবুল কাশেম এর বিরুদ্ধে।
রামগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই’র) কর্মকর্তারা ফতেহপুর গ্রামের দর্জি বাড়িসহ তিনটি বাড়ি থেকে ৭ বস্তা চাল উদ্ধার করেন।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এন,এস,আই )-এর ফিল্ড অফিসার রাজিব ভৌমিক জানান, সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০টাকা কেজি ধরে কার্ডধারী হতদরিদ্রদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ডিলার আবুল কাশেম পাটোয়ারী কার্ডবিহীন ২৯বস্তা চাউল অন্যত্র বস্তাপ্রতি ৫শ’ টাকা করে বিক্রি করে দেয়।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক মানিক চন্দ্র দে জানান, তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের দর্জি বাড়ির মিলন, বাবুল, স্বপন, বসাজী মোল্লা বাড়ির মো. বাবুল, ইউসুফ ও নোয়াবাড়ির মো. হোসেনসহ ৭টি ঘর থেকে প্রতিটি ৩০ কেজি ওজনের ৭ বস্তা চাল জব্দ করেন। পরে রামগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে জব্দকৃত চালের বস্তাগুলো খাদ্যগুদামে নেওয়া হয়।
তবে চালের ডিলার আবুল কাশেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ডিলার হলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী তা বিক্রি করছেন ক্রেতাদের নিকট। এ ছাড়া প্রশাসন যে ২৯ বস্তা চাল জব্দ করেছে সে চাল চেয়ারম্যানের নির্দেশে তালিকাবিহীন হতদরিদ্র অন্য ত্রিশজন লোকের নিকট তিনি বিক্রি করেছেন।
এ ছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার আবুল কাশেম আরও জানান, তিনি তালিকা অনুযায়ী গত কয়েকদিন থেকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করলেও ৩০ জন কার্ডধারী হতদরিদ্র লোক চাল ক্রয় করতে আসেনি। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভূইঁয়া হতদরিদ্রদের নতুন আরেকটি তালিকা অনুযায়ী চাল বিক্রি করার কথা বলেন। তবে এসময় তিনি যাদের নিকট চাউল বিক্রি করেছেন তার একটি তালিকা কয়েকজনকে দেখান তিনি। এ সময় ৩শ’ টাকার স্থলে কেন ৫শ’ টাকা করে নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্ন করলে তার কোন সদুত্তোর দেননি আবুল কাশেম
স্থানীয় ইউপি চন্ডিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভুঁইয়া জানান, তিনি ডিলার না। নিয়মানুযায়ী কার্ডধারী ২৯ জন হতদরিদ্র লোক চাল নিতে না আসায় তাদের স্থলে নতুন হতদরিদ্রদের তালিকা করে চালগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে ৩শ’ টাকার স্থলে বস্তাপ্রতি ৫শ’ টাকা নেয়ার ব্যপারে কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান জানান, কার্ডধারী কেউ যদি চাউল নিতে অপারগতা প্রকাশ করে বা মৃত্যুজনিত কারণে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না নেয় সে ক্ষেত্রে ঐ কার্ডধারী ব্যক্তিদের স্থানে নতুন করে অসহায় হতদরিদ্রদের নাম প্রতিস্থাপন করা যায়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট ডিলার এ ব্যপারে তার নিকট কিছু না জানিয়ে চালগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। এটা দু:খজনক। এ ব্যাপারে ডিলারের ডিলারশীপ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা করছেন বলে জানান তিনি।
