ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

আখাউড়ার সেই নারী ও নাসিরনগরের প্রবাসী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন

আখাউড়ার সেই নারী ও নাসিরনগরের প্রবাসী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন
×

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:৪১ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলায় মারা যাওয়া ৪০ বছর বয়সী নারী এবং নাসিরনগর উপজেলায় মারা যাওয়া ৩৫ বছর বয়সী প্রবাসী দু’জনেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

রোববার আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা এবং নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল ভোররাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে আখাউড়ায় আসা ওই নারী এবং গত ৭ এপ্রিল রাতে নাসিরনগরে মালয়েশিয়া প্রবাসী ওই যুবক মারা যান।

স্থানীয়রা জানান, গত ২ এপ্রিল ওই নারী তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রানীখার গ্রামের স্বামীর বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পর থেকেই তিনি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছিলেন। তবে পরিবারের লোকজন বিষয়টি গোপন রাখেন। গত ৯ এপ্রিল ভোররাতে ওই নারী মারা গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা ওই নারীসহ পরিবারের লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠান। এরপর থেকে ওই বাড়িসহ আশপাশের এলাকা লকডাউন করা হয়।

এদিকে স্থানীয় লোকজন ওই নারী মারা যাওয়ার পর থেকেই ওই বাড়িসহ আশেপাশে এলাকায় লোক চলাচলে কঠোরতা অবলম্বন করেন। তারা বাঁশ দিয়ে এ সব বাড়িতে যাওয়ার পথ আটকে দেন।

রোববার সকালে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ওই নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এলাকাটিতে লোক চলাচলে আরও কঠোরতা অবলম্বনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে গত ৭ এপ্রিল শ্বাসকষ্ট নিয়ে নাসিরনগর উপজেলার জেঠাগ্রামে মারা যাওয়া আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী ওই প্রবাসীও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায়। তিনি জানান, ওই প্রবাসীর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৮ মার্চ নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী ওই মালয়েশিয়া প্রবাসী দেশে ফেরেন। এর পর তিনি সরকারি নির্দেশনা মেনে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকাকালে তার শারীরিক কোনো সমস্যা হয়নি। পরে গত ৪ এপ্রিল তিনি কিছুটা অসুস্থ্যতাবোধ করলে তার শারীরিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় তার টাইফয়েড ধরা পড়ে, তবে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ ছিল না। পরে গত ৭ এপ্রিল রাতে উপজেলার জেঠাগ্রামের শ্বশুর বাড়িতে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ওই প্রবাসীর নিজ বাড়ি ও তার শ্বশুরবাড়ি লকডাউন করে দেয় উপজেলা  প্রশাসন।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় বলেন, রোববার দুপুরে ওই প্রবাসীর পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে চিকিৎসা দিতে আমাদের আবাসিক চিকিৎসক ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তার সংস্পর্শে এসেছিলেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×