উচ্ছেদ না করেই ফিরতে হলো এমপি-ডিসিকে
ছবি: সমকাল
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৪:০৭
বাগেরহাটে মাছ চাষের জন্য অবৈধ বাঁধ দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে একটি খাল। সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েও ফিরতে হয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন পরে বিএনপি নেতাদের অনুরোধে দখলদারদের ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এমন দৃষ্টান্ত দখলদারদের উৎসাহিত করবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানী খালের একাংশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অতীতে ওই এলাকা আওয়ামী লীগের লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তা চলে যায় বিএনপিপন্থি কয়েকজনের হাতে।
শনিবার পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যান প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিন্তু উচ্ছেদ শুরুর আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন দখলদার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বাঁধ না কাটার জন্য অনুরোধ জানান। সংবাদ পেয়ে সেখানে যান সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। তাদের কাছেও খালের বাঁধ না কাটার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন যুক্তি দেন সেলিম কাজী। তিনি দাবি করেন, খালে তারা পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মাছ ছেড়েছেন। এখন কেটে দিলে ক্ষতি হয়ে যাবে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধ কেটে দেওয়ার দাবি জানান, চাপ সৃষ্টি করেন সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের ওপর। তবে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক দখলদারদের ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার সময় দিয়ে চলে যান।
এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। উল্টো তারা খালের পাড় দিয়ে গরু নিয়েও যেতে দেয় না। সরকারি লোকজন বাঁধ কাটতে আসায় আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু এভাবে চলে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। এমন দৃষ্টান্ত দখলদারদের উৎসাহিত করবে বলেও মনে করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষকে তারা অপরাধই মনে করে না। জেলার সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা, এমনকি সংসদ সদস্যের সামনেও তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলেন। সাধারণ মানুষ হিসেবে এটি ভালো লাগেনি।
এদিকে প্রকাশ্যে খালের বাঁধ কাটতে বাধা দিলেও অন্যদিকে দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেন সেলিম কাজী। তাঁর দাবি, তিনি এ খাল দখল করেননি। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পরে এক বছর ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন খালটি ভোগদখল করছেন।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘এই দেলভাষানী খালে যারা বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন, তারা সময় চেয়েছেন। আমরা কৌশলগত কারণে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেই বিষয়টি বিবেচনা করেছি। দুই সপ্তাহ পরে আমরা খালটি উন্মুক্ত করে দেব।’
সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, ‘খাল খনন ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। সারাদেশের মতো বাগেরহাটেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেলভাষানী খালে এসে জানতে পেরেছি এখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। যারা মাছ চাষ করছেন, তারা সময় প্রার্থনা করেছে। আমরা দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছি। দুই সপ্তাহের মধ্যেও তারা মাছ তুলে নেবেন, তারপর আমরা খালটি উন্মুক্ত করে দেব।’
- বিষয় :
- বাগেরহাট
- উচ্ছেদ অভিযান
- ডিসি
- পুলিশ সুপার
