ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

গ্রামবাসীর পক্ষে থাকা যুবলীগ নেতা আটক, বিক্ষোভের পর মুক্ত

গ্রামবাসীর পক্ষে থাকা যুবলীগ নেতা আটক, বিক্ষোভের পর মুক্ত
×

ছবি: সমকাল

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০১:৩১

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগের এক নেতাকে আটক করার পর তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে থানার সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান নেন গ্রামবাসী। স্থানীয় একটি বাজার নিয়ে বিরোধ দমনে একটি পক্ষের হয়ে তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আটকের অভিযোগ তুলেন গ্রামের বাসিন্দারা। পরে গ্রামবাসীর প্রতিনিধিদের আলোচনার পর আটক রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটক রিপন সরকার উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের হাবিবুর সরকারের ছেলে। তিনি পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল ইসলাম পাটুলিপাড়া গ্রাম থেকে নাশকতায় সম্পৃক্ততার সন্দেহভাজন হিসেবে রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টেবুনিয়া-বাঘাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পাটুলিপাড়া গ্রামের একটি খাসজমি ও ছোট বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইউনুস সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরোধ চলে আসছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি জায়গা দখল করে ইউনুস সরকার সেখানে ঘর নির্মাণ করেছিলেন। পরে গ্রামবাসী ঘরটি ভেঙে সেখানে 
পুনরায় মাছের বাজার বসান এবং স্থানটিকে ছোট বাজার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যানার টানান। অন্যদিকে ইউনুস সরকার জায়গাটি নিজের দাবি করে রিপন সরকারসহ কয়েকজন গ্রামবাসীকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ওই বিরোধে তাদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা রিপন সরকার। তাঁকে হয়রানি ও তাদের অবস্থান দুর্বল করতেই পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ তাদের। তারা আরও দাবি করেন, ইউনুস সরকারের দায়ের করা অভিযোগের কারণেই তাঁকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে।

রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৩০০ লোক ভাঙ্গুড়া থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁকে মুক্তির দাবি জানান। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থানা চত্বর থেকে বাইরে সরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আজম উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি যুবলীগের সভাপতিকে নিয়ে এসেছি। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা কি মব করতে চান? এই মুহূর্তে থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওসির কক্ষে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দল তাঁকে সঙ্গে নিয়ে থানা থেকে বের হয়ে গ্রামে ফিরে যান।

রিপন সরকারকে কেন আটক করা হয়েছিল এবং পরে কী বিবেচনায় ছেড়ে দেওয়া হলো জানতে চাইলে ওসি সাকিউল আযম বলেন, নাশকতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর সম্পৃক্ততা না পাওয়া এবং গ্রামবাসীর বিক্ষোভ ও দাবির কারণে তাঁকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×