‘না খেয়ে মরার চেয়ে করোনায় মরা শান্তির’
মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:১১ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
‘ঘরে চাল নাই, ডাল নাই, তরকারি কিচ্ছু নাই। ছেলেটার পেট ব্যথা-ওষুধ কেনার টাকা নাই। বাসা ভাড়ার জন্য চাপ দিতাছে মালিক। দিতে পারছি না। এভাবে মরে যাওয়ার চেয়ে করোনায় মইরা যামু তাও শান্তি।’ মহাসড়কে দাঁড়িয়ে মাস্কে মুখ ঢাকা পোশাক কারখানা শ্রমিক শেফালী আক্তার চোখ মুছতে মুছতে বলছিছেন কথাগুলো।
দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি নিয়ে হাজারো শ্রমিকের সঙ্গে তিনিও নেমেছেন মহাসড়কে।
শেফালী বলছিলেন, ‘অনাহারে অন্তত মরতে পারুম না। ঘাম ঝরানো টাকা মালিক দিচ্ছে না। এই দুঃসময় কে কার?’
শেফালীর মতো হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক রোববার সকালে গাজীপুর মহানগরের সাইনবোর্ড ও ভোগড়া বাইপাস এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে আসেন, বিক্ষোভ করেন। শুধু বিক্ষোভই নয়, তাদের বাঁচিয়ে রাখার আকুতি জানান।
গাজীপুরে লকডাউনের নিয়ম ভেঙে ইস্ট-ওয়েস্ট গ্রুপের নিউওয়ে ফ্যাশনস লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করেন। তাদের দাবি, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর প্রাপ্য বেতন আদায়ের জন্যই তারা এই সময়ে সড়কে নেমেছেন।
নিউওয়ে ফ্যাশনস কারখানার শ্রমিক ইসমত আরা বলেন, দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। কারখানা কর্তৃপক্ষ দেই-দিচ্ছি করে ঘুরাচ্ছে। এখন আমাদের ঘরে খাবার নেই। বাড়িভাড়া ও দোকান বাকি পড়ে আছে। পাওনাদারদের জন্য বাসা থেকে বের হতে পারছি না। এর মধ্যে গাজীপুর লকডাউন করা হয়েছে। এখন তাদের না খেয়ে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
রাশেদুল হাসান নামে এক শ্রমিক বলেন, সরকার যে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে তা কেবল যারা স্থানীয় ও গাজীপুরের যারা ভোটার তারা পাচ্ছেন। অন্যরা কোনো ত্রাণ পাচ্ছে না। তাই এখন আমরা বেতন পেলে সন্তানদের নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। যানবাহন বন্ধ থাকায় সন্তানদের গ্রামের বাড়িতেও রেখে আসতে পারছি না।
মহানগরের গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, আন্দোলন করায় মালিকপক্ষ বেতন পরিশোধের ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
