সিলেটে ২টি বেসরকারি হাসপাতালে মিলবে করোনার চিকিৎসা
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
সিলেট নগরীর শহীদ শামসুদ্দনি আহমদ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে আগেই। বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে নগরীর সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতাল ও শাহপরাণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে শুধু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে কুলিয়ে ওঠা যাবে না। ফলে নগরীরর দু'টি বেসরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অন্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সহায়তা নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।
দক্ষিণ সুরমার বেসরকারি নর্থইস্ট মেডিকেল কলজে হাসপাতাল ও নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল শনিবার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিভাগীয় কমিটির সভায় এ দু'টি হাসপাতালের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এর আগে, সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আলাদা বৈঠক করে। সে বৈঠকে মাউন্ট এডোয়ার হাসপাতালের দু'টি শাখার মধ্যে নয়াসড়কে অবস্থিত শাখাটি করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দু'টি আইসিইউ বেডসহ পুরো নবম তলায় করোনা আক্রান্তদরে চকিৎিসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নবম তলায় অন্তত ২০টি আইসিইউ বেড বসানো সম্ভব বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে নগরীর অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে আইসিইউ বেড এনে সেখানে স্থাপন করা হবে। সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রমোনন্দ মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দনি আহমদ হাসপাতালে আরও ৯টি আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেশন ও কার্ডিয়াক মনিটর বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই হাসপাতালে প্রথমে দু'টি আইসিইউ ইউনিট ছিল করোনা আক্রান্তদরে জরুরি চিকিৎসার জন্য।
করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সিলেট বিভাগও করোনা ঝুঁকির বাইরে নয়। সুুনামগঞ্জ ও হবগিঞ্জে দুই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই দু'জন সম্প্রতি করোনার 'হটস্পট' নারায়নগঞ্জ থেকে সেখানে যান। এরমধ্যে অনেকেই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ফিরেছেন।
সিলেটে একজন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৌলভীবাজারে এক দোকানি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলা কার্যত লকডাউন করা হয়েছে।
