ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

মাগুরায় না খেয়ে দিন কাটছে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবীদের

মাগুরায় না খেয়ে দিন কাটছে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবীদের
×

ত্রাণ না পেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবীদের

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০৮:৫৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনাভাইরাসের কারণে বিপাকে পড়েছেন মাগুরার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। দিনের পর দিন চলা অঘোষিত লকডাউনের ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন তারা। 

অধিকাংশ হতদরিদ্র মানুষ সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সামগ্রী পেয়ে পরিবার নিয়ে কোনভাবে দিনাতিপাত করলেও লোকলজ্জায় ও সংকোচে অভাবের কথা বলতে না পারায় বেশিরভাগ নিম্ন মধ্যবিত্তের কপালে জুটছে না এসব ত্রাণ সামগ্রী। ফলে অনেকেরই দিন কাটছে না খেয়ে। 

করোনাভাইরাসের কারণে মাগুরার সর্বত্র চলছে অঘোষিত লকডাউন। শুধু ওষুধের দোকান বাদে দিনে কিছু সময়ের জন্য খোলা থাকছে নিত্যপণ্যের দোকান ও কাঁচা বাজার। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষেরা। 

শহরের নতুন বাজার সড়কের তুজাম হোসেন জানান, সাইকেল মিস্ত্রির কাজের উপরই তার সংসার। কিন্তু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২৬ তারিখ থেকে তার দোকান বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি। লজ্জায় করো কাছে হাত পাততেও পারছেন না। যে কারণে পরিবার নিয়ে এখন তার একরকম না খেয়ে দিন কাটছে।

নতুন বাজারের চা দোকানী সন্তু অধিকারী বলেন, করোনার কারণে ২৬ তারিখ থেকে বেকার বসে আছি। তারপর ঘরে ক্যান্সারের রোগী। সরকারি সহায়তা তো দূরে থাক খেয়ে আছি না  না খেয়ে আছি কেউ জিজ্ঞাসা করেনি। 

শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী অধিকাংশ মানুষের গল্প একই।

তবে কিছু ব্যতিক্রম ঘটনাও আছে। শহরের একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, তারা লজ্জা ফেলে স্থানীয় এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের কাছে ফোনে অভাবের কথা জানিয়েছিলেন। পরিমাণে কম হলেও তিনি বিকাশে টাকা পাঠিয়ে সহযোগিতা করেছেন। খাদ্যপণ্য, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর পাশাপাশি তিনি নিম্ন মধ্যবিত্তদের নগদ টাকা সহায়তা করছেন।

জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, এ পর্যন্ত সরকারিভাবে  ৮ হাজার পরিবারের মাঝে ১৪০ মেট্রিক টন চাল ও ১১ লাখ টাকার ডাল, তেল, আলু, লবন, সাবান বিতরণ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। আবেদন সাপেক্ষে আরো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। 


আরও পড়ুন

×