চকরিয়ায় বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের বীজতলা ও চিংড়ি ঘেরের। বন্যায় ১১ হাজার ৬০ হেক্টর জমির আউশ, ৫৮৫ হেক্টর আমন বীজতলা ও রোপা আমন এবং ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। আবার শত শত একর চিংড়ি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। অন্যদিকে, চকরিয়ার বেশির ভাগ মানুষ বেকায়দায় পড়েছেন পালিত গবাদিপশু নিয়ে। বর্তমানে সব ইউনিয়নে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। চকরিয়া উপজেলার জন্য সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত ৪৫ টন চাল ও ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ৪৫ টন চালের মধ্যে ২৫ টন খিচুড়ি হিসেবে রান্না করে বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও দুর্গতদের বড় অংশই তা পাননি। যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ ছিল, সেখানকার লোকজন রান্না করা খিচুড়ি পাননি। কাকারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মর্তুজা বেগম দাবি করেছেন, বন্যায় ৩ দিন ধরে কষ্ট পেলেও খিচুড়ি চোখে দেখেননি।
এবারের বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা ও ডেইঙ্গাকাটা, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি, ফাঁসিয়াখালীর হাজিয়ান, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বি.এম. চর, পূর্ব বড় ভেওলা, সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান বলেন, ‘ইউনিয়নের পহরচাঁদাসহ বেশকিছু এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে নষ্ট হয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো। পহরচাঁদায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে ভবিষ্যতে বন্যা আরও মারাত্মক হবে।’
বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুরুল কাদের বলেন, ‘অতীতে অনেক বন্যা হয়েছে, এবারের মতো বন্যা আর ক্ষয়ক্ষতি কখনও হয়িন।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম দাবি করেছেন, তার পুরো এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেরাজ উদ্দিন মিরাজ জানিয়েছেন, রেললাইনের কারণে তার ইউনিয়নে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। তিনি রেললাইনের ব্রিজ, কালভার্ট অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেন।
পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে বি.এম. চর ইউনিয়নের কন্যারকুম ও কুরিল্যার টেক, পুরুত্যাখালী এলাকায় সহজে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। বি.এম. চর, পূর্ব বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা ও বদরখালী ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী জানান, ‘বানভাসি মানুষ খুব কষ্টে আছেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা খুবই কম। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।’
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড চকরিয়া উপজেলার শাখা কর্মকর্তা (এসও) মো. জামাল মোর্শেদ বলেন, ‘বন্যার তাণ্ডবে মাতামুহুরী নদীর চকরিয়া উপজেলা অংশের ৩ স্থানে প্রায় ১৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ভাঙন দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামত করা হবে।’
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, ‘বন্যাকবলিত প্রত্যেক এলাকা সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চলছে। দুর্গতদের খাদ্য সহায়তা দিতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।’