ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভাঙা সেতুতে দুর্ভোগ

ভাঙা সেতুতে দুর্ভোগ
×

জগন্নাথপুরের নাইয়াদাঁড়া নদীর ওপর পরিত্যক্ত ভাঙা সেতু - সমকাল

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৩ | ০৫:২৬ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৩ | ০৫:২৬

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের নাইয়াদাঁড়া নদীর ওপর সাত বছর আগে ভেঙে যাওয়া সেতুটি মেরামত করা বা সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি আজও। যার কারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষ।

সেতুটির কারণে এ পথে চলাচল করে না কোনো যানবাহন। প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরপথে নদী পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে এখানকার শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, ২০০০ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের প্রভাকরপুর-নন্দীরগাঁও মসজিদ সড়কের নাইয়াদাঁড়া নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করে। নদীর প্রবল স্রোতে ২০১৬ সালে সেতুটি ভেঙে যায়। বন্ধ হয়ে যায় ওই সড়কে যান চলাচল। এরপর থেকে এলাকাবাসী নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও সাত বছরে সেতু নির্মাণের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে সেতু বেহাল হলেও ভাঙা সেতুর মুখের রাস্তায় পিচ ঢালাইয়ের কাজ করেছে এলজিইডি। অচল সেতুর সংযোগ সড়কে এ কেমন উন্নয়ন– এ নিয়ে নানা প্রশ্ন স্থানীয়দের মধ্যে।

এরালিয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী হালিমা জান্নাত জানায়, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এখন দেড় কিলোমিটার কাঁচা মাটির রাস্তা হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।

পাটলী ইউনিয়ন উইমেন্স কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমা জানান, কলেজের বাস নদীর ওই পাড়ে দাঁড়ানো থাকে। যেখানে পাঁচ মিনিটে যাওয়া যেত, সেখানে এখন প্রায় ৩০ মিনিটের পথ হেঁটে পার হতে হয়।

পাটলী  ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছায়াদ মিয়া জানান, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ওই এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ওই সেতু দিয়ে উপজেলা সদরসহ ইউনিয়ন পরিষদ, রসুলগঞ্জ বাজার ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। বিদ্যালয়ে যেতে হলে দেড় কিলোমিটার ঘুরে গ্রামের ভেতর দিয়ে কাঁচা রাস্তায় যাওয়া-আসা করতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়া জানান, সেতুটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, নির্মাণ তালিকায় ওই সড়কের সেতুটির উল্লেখ নেই। তবে দ্রুতই সেতুটি সরেজমিন পরিদর্শন করে নতুন সেতু নির্মাণের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অবগত করবেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×