ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বকশীগঞ্জে ইউপি সদস্য-চেয়ারম্যান দ্বন্দ্ব

ইউপি ভবনে সদস্যদের তালা

ইউপি ভবনে সদস্যদের তালা
×

ফাইল ছবি

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

জামালপুরের বকশীগঞ্জের বগারচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ইউপি সদস্যরা। গতকাল সোমবার চেয়ারম্যান পরিষদে না থাকার সুযোগে পরিষদের প্রতিটি রুমে তালা লাগিয়ে দেন সদস্যরা। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

জানা যায়, কয়েক মাস ধরে বগারচর ইউপির ১১ জন সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থাসহ নানাভাবে আন্দোলন করে আসছেন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেছেন তারা। এসব নিয়ে চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান প্রমানিক মাসুম ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। চেয়ারম্যান আইনগতভাবে সদস্যদের মামলা মোকাবেলা করে আসছেন। রোববার পরিষদে টিসিবি পণ্য বিতরণ করা হয়। ডিলারের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭০০ কার্ডধারীর মাঝে এসব পণ্য বিতরণ করা হয়। ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে ডিলারের লোকজন এসব পণ্য বিতরণ করেন। কিন্তু টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার পরিষদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন সদস্যরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে ইউপি সদস্যরা গ্রাম পুলিশদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান প্রমানিক মাসুম। তালা দেওয়ায় সোমবার অফিস করতে পারেননি চেয়ারম্যান। অনেকেই ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন কাজে এসে ফিরে যান।

জন্মনিবন্ধন করতে আসা শেফালী বেগম বলেন, ছেলের জন্মনিবন্ধনের জন্য এসে দেখেন পরিষদ ভবন তালাবদ্ধ। তাই জন্মনিবন্ধন না করেই ফিরে যাচ্ছেন।

টালিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দুদু মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে মামলা, পাল্টা মামলা, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের কারণে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

গ্রাম পুলিশ দীননাথ বাবু বলেন, অনেক লোকজন নিয়ে পরিষদে যান সদস্যরা। গেট খুলতে দেরি হওয়ায় তারা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান, আফসার আলী, পলাশ ও আবদুল বাসেদ বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। গত রোববার টিসিবি পণ্য বিতরণে অনিয়ম করেছেন তিনি। অনিয়মের প্রতিবাদে পরিষদে তালা লাগানো হয়েছে। গ্রাম পুলিশদের গালাগাল ও হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেন তারা।

বকশীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ লায়ন বলেন, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্য থাকতে পারে। তাই বলে পরিষদে তালা দিতে হবে কেন। সদস্যরা এই দুঃসাহস পান কী করে? তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান প্রমানিক মাসুম বলেন, একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে সদস্যরা কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর বিরোধিতা করছেন। তারা তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। টিসিবির পণ্য বিতরণ করেছেন ডিলাররা। সব কার্ডধারীই পণ্য পেয়েছেন। টিসিবি পণ্যের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সোহেল রানা বলেন, গ্রাম পুলিশরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে বকশীগঞ্জের ইউএনও লুতফুন নাহারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

×