ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পৌর সড়কে হাঁটাই কষ্ট

পৌর সড়কে হাঁটাই কষ্ট
×

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৩ | ০৪:০২ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৩ | ০৪:০২

হাওর-ভাটির পৌরসভা দিরাইয়ের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দার চলাচলের বেশির ভাগ সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। অনেক সড়কে রিকশা বা অটোতে চড়া তো দূরের কথা, হেঁটে চলাই কষ্টকর। রাস্তার এই অবস্থার কারণে শহরে ঢোকার মুখে বাসস্ট্যান্ডের চেয়ে সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি হওয়ায় যানজট লেগেই থাকে। পৌর মেয়র বিশ্বজিৎ রায় সড়কের বিধ্বস্ত অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি একটা ঋণগ্রস্ত পৌরসভার দায়িত্ব নিয়েছি। ঋণের জন্য অনেক বড় বড় প্রকল্প থেকে পৌরসভা বঞ্চিত হয়েছে। এখন পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাচ্ছে।’

দিরাই পৌর শহরে ঢোকার মুখে থাকা বাসস্ট্যান্ডে যত বাস থাকে, তার চেয়ে বেশি রাখা হয় সড়কের ওপর। এতে ভোগান্তির বিষয়টি বহুদিনের। সমস্যা নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেই স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পৌরসভার। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকামুখী বাসের কারণে এখানে যানজট তৈরি হচ্ছে প্রতিদিনই। তার মধ্যে বেহাল সড়কের কারণে সাধারণের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

স্থানীয়রা জানান, ২০২২-এর বন্যার পর উল্লেখ করার মতো কাজ হয়নি পৌর এলাকার সড়কে। এ কারণে সড়কে সড়কে এখন ধুঁকতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। দিরাই বাজারের দুই গলির অবস্থা একেবারে নাজুক। না দেখলে কেউ বুঝবেন না পৌর এলাকায় এমন ভোগান্তির সড়ক আছে। বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারমুখী সড়কের অবস্থা বেহাল। চন্ডিপুরমুখী সড়কে জরুরি কাজ ছাড়া কেউ যান না। এই সড়কের স্থানে স্থানে গর্ত। বাসস্ট্যান্ড থেকে শাল্লা সড়কের ব্রিজ পর্যন্ত বেহাল। বালুর মাঠের সড়কটিও চলাচলের অনুপযোগী। এ ছাড়া পৌর এলাকার এমন বেশ কয়েকটি ব্যস্ততম সড়ক আছে, যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকছে। এই সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করতে চান না কেউই।

পোস্ট অফিস রোডে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। হারানপুর রোডেরও একই অবস্থা। খানাখন্দে ভরা এই সড়কেও জলাবদ্ধতা লেগেই আছে। বাাজারের কাপড়ের গলির অবস্থাও খারাপ হয়ে আছে।

ব্যবসায়ী ধনীর রায় জানান, গলি দিয়ে চলাচলের সময় যে ঝাঁকুনি খেতে হয়, তাতে শরীরে প্রচণ্ড চাপ পড়ে। বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য চলাচল খুবই কঠিন।

দোওজ এলাকার এই বাসিন্দারা জানান, কয়েকবার এলাকার সড়কের মাপ নেওয়া হয়েছে। তবে কাজ আর শুরু হয়নি। মানুষের ভোগান্তিও দূর হয় না। কোনো কোনো সড়কের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তার মধ্যে দিরাই পৌরসভার অন্যতম সমস্যা বাসস্ট্যান্ডের যানজট।

হারানপুর রোড়ের রাহী ভ্যারাইটিজ স্টোরের পাবেল আহমদ জানান, হারানপুর-মজলিশপুর সড়কের কিছু অংশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রায়ই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে।

দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ্বজিত রায় জানান, ২০২০ সালে যখন পৌরসভার দায়িত্ব নেন তখন বিদ্যুৎ বিলসহ পৌরসভা নানাভাবে ঋণগ্রস্ত ছিল। এসব কারণে অনেক প্রকল্প হাতছাড়া হয়েছে। ক্রমান্বয়ে এসব জটিলতা দূর করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ কিছু প্রকল্পের অনুমোদন হবে। তখন সড়কগুলোতে কাজ হবে। এর মধ্যে চণ্ডিপুরমুখী সড়কের কাজ দ্রুতই শুরু হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

×