দাফন-কাফনে এগিয়ে গেলেন স্বেচ্ছাসেবীরা
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২০ | ০১:২৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা যান ইটভাটা শ্রমিক চান মিয়া (৪০)। অনেক রাত হয়ে গেলেও তার জানাজা ও দাফনে এগিয়ে আসছিলেন না আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার কেউই। অবশেষে লাশ দাফনে এগিয়ে যান কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার দাফন-কাফন সম্পন্ন করে স্বেচ্ছাসেবী দলটি।
ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ফাজিল ব্যাপারীরহাট এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চান মিয়া ফেনীর একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোমবার তিনি বাড়ি ফিরেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে এবং বাড়িটি লকডাউন করে দেয়।
এদিকে করোনা সন্দেহে আত্মীয়-স্বজন কিংবা এলাকাবাসীর কেউই উদ্যোগ না নেওয়ায় লাশ পড়ে ছিল গভীর রাত পর্যন্ত। এমনকী ভয়ে পালিয়ে যান এলাকার লোকজন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রেজাউল করিম রাজীব উদ্যোগ নেন দাফন-কাফনের। করোনায় আক্রান্ত কিংবা করোনার সন্দেহে মৃত ব্যক্তির দাফনের জন্য গঠন করা স্বেচ্ছাসেবী দলের তালিকা থেকে ইসলামী আন্দোলনের সাতজন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে তিনি ছুটে যান মৃত চান মিয়ার বাড়িতে। ১০ জনের টিমটি ধর্মীয় সকল রীতিনীতির মাধ্যমে মৃতের গোসল, জানাজা ও দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। ডা. রাজীব জানান, চাঁন মিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কি-না, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যখন শুনলাম মৃতের দাফন-কাফনের জন্য কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তখন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে আমি এগিয়ে যাই। সুরক্ষাসামগ্রী পরে সব নিয়ম মেনে আমরা তার দাফনকাজ সম্পন্ন করি।
