পটুয়াখালীতে অর্ধেকে নেমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২০ | ০২:৫৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাসের প্রভাবে পটুয়াখালীর পোল্ট্রি শিল্পে ধস নেমেছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণের ভয়ে কেউ ব্রয়লার মুরগি কিনছেন না। আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে মুরগির দাম। করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। মাত্র চার সপ্তাহের ব্যবধানে ১৪০ টাকার ব্রয়লার মুরগি এখন ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাও ক্রেতা নেই বাজারে। এর ফলে পোল্ট্রি খামারে চরম ধস নেমে আসায় হাত গুটিয়ে বসেছেন খামার মালিকরা।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে- গুজব প্রতিরোধ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং করা। আর তা না হলে পোল্ট্রি শিল্প একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পোল্ট্রি খামার মালিক ও স্থানীয় ব্রয়লার মুরগি ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, উপকূলীয় এ পটুয়াখালী জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত: পাঁচ সহস্রাধিক পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এ সব খামারে প্রচুর ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন করা হয় এবং এসব ব্রয়লার মুরগি পটুয়াখালী জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলাগুলোর বাজারেও ব্যাপক চাহিদা ছিল। বিক্রিও হতো প্রচুর। নিম্ম আয়ের লোকজনের প্রোটিনের একমাত্র ভরসাও ছিল ব্রয়লার মুরগি। যেখানে এক কেজি ওজনের একটি দেশি জাতের মুরগি কিনতে লাগে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। সেখানে পোল্ট্রি খামারের ব্রয়লার মুরগি কিনতে লাগতো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত লোকজনের কাছে ব্রয়লার মুরগির ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু পোল্ট্রি খামারের ব্রয়লার মুরগিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ায় এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে এ মুরগি কেনা বন্ধ করে দেয় ক্রেতারা। মাত্র চার সপ্তাহের ব্যবধানে ধস নামে পোল্ট্রি শিল্পে।
গত শনিবার সকালে শহরের নিউ মার্কেট ও পুরাতন বাজার এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। যা প্রচলিত বাজার দরের চেয়ে অর্ধকে নেমে এসেছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে পোল্ট্রি খামারিদের। এ কারণেই হাত গুটিয়ে নিয়েছেন পোল্ট্রি খামারের মালিকরা।
পোল্ট্রি খামারি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রয়লার মুরগিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই ব্রয়লার মুরগি কেনা বন্ধ করে দেয় ক্রেতারা। এতে কমে যায় এই ব্রয়লার মুরগির দামও। এর ফলে গত তিন সপ্তাহ ধরে পোল্ট্রি ব্যবসায় ধস চলছে। তাই এ পোল্ট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারকে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা নাহলে এ শিল্পকে আর বাঁচিয়ে রাখা যাবে না।
শহরের নিউমার্কেট বাজারের ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মো. হেলাল হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ হুজুগের পাগল। যে-ই হুনছে ব্রয়লার মুরগিতে করোনা ছড়ায়, হেই ব্রয়লার মুরগি কেনা বন্ধ করে দিয়েছে লোকজন। বাজারে ক্রেতা না থাকায় ১৪০ টেকার ব্রয়লার মুরগি এখন ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাতেও বাজারে তেমন ক্রেতা নাই’।
পটুয়াখালী জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত: পাঁচ সহস্রাধিক পোল্ট্রি খামার রয়েছে এবং এসব খামারে প্রচুর ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ব্রয়লার মুরগি চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রিও হচ্ছে কম। তাই আগের চেয়ে দাম কিছুটা কমে গেছে’। তিনি আরও বলেন, ‘এই মূহুর্তে সবারই দুধ ও মাংস খাওয়া জরুরী। এসব না খেলে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বা শক্তি হবে কি ভাবে? তাই কোন গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে ব্রয়লার মুরগি খেতে বলছি এবং এতে করোনাভাইরাসের কোন সমস্যা নেই। জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’।
