ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চার দিন ধরে হাসপাতালে পানি সরবরাহ বন্ধ, দুর্ভোগ

চার দিন ধরে হাসপাতালে পানি সরবরাহ বন্ধ, দুর্ভোগ
×

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে - সমকাল

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৩ | ১৬:৫৭ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৩ | ১৬:৫৭

বরগুনায় বৈদ্যুতিক মোটর বিকল হওয়ায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসবাসরত ডাক্তার, নার্স ও তাদের পরিবারকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল, ডাক্তার ও নার্সদের আবাসিক ভবনে পানি সরবরাহের জন্য এক বছর আগে একটি নতুন মোটর বসানো হয়। মোটরটি গত বুধবার আকস্মিক বিকল হয়ে পড়ে। সেই থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্তসহ ৪৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের সঙ্গে স্বজনরাও সার্বক্ষণিক হাসপাতালে অবস্থান করছেন। পানি সরবরাহ না থাকায় ডাক্তার, নার্স, রোগী ও তাদের স্বজনরা খুবই অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। পানির অভাবে দুর্গন্ধের কারণে শৌচাগারের ধারেকাছেও যেতে পারছেন না কেউ। রোগী এবং তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনরা হাসপাতালের আশপাশের কোনো বাসাবাড়ি কিংবা দূরে স্বজনের বাসায় গিয়ে গোসল এবং শৌচাগারের প্রয়োজন সেরে আসছেন।

শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, রোগী এবং স্বজনরা বালতি এবং পানির বোতল ভরে বাইরের নলকূপ থেকে পানি নিয়ে আসছেন। অনেক রোগী গোসল ও শৌচাগারের কাজে হাসপাতাল চত্বরের বাইরে যাচ্ছেন। এ সময় আলেয়া নামে রোগীর এক স্বজন বলেন, তাঁর রোগী হাসপাতাল ভবনের চার তলায় অবস্থান করছেন। বাইরে থেকে পানি নিয়ে চার তলায় ওঠা খুব কষ্টকর। এভাবে পারা যায় না।

ডেঙ্গু আক্রান্ত মেহেদি হাসান বলেন, চার দিন ধরে গোসল করতে পারছেন না। শৌচাগার ব্যবহার করতে পারছেন না। শহরে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে গোসল এবং শৌচাগার সেরে আসছেন তিনি।

আব্দুল জব্বার নামে বৃদ্ধ এক রোগী বলেন, ‘বয়সের কারণে এমনিতেই ঠিকমতো চলাচল করতে পারি না। তার ওপর ডেঙ্গু জ্বর। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এখানে পানি নেই। না পারছি গোসল করতে, না পারছি শৌচাগারে যেতে। এখন আমাদের হয়েছে মরণদশা।’ 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্য কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে চারটি আবাসিক ভবন। পানি না থাকায় এসব ভবনের বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রেভা, সালমা, মোর্শেদা, আঁখিসহ আবাসিক ভবনে বসবাসরত নার্সরা বলেন, বিকল্পভাবে তাদের যে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। প্রচণ্ড গরমে পানির অভাবে খুবই কষ্টে আছেন তারা। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপসহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত হালদার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিকল মোটরটি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিম্নমানের মোটর স্থাপনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, চার দিন ধরে পানি তোলার বৈদ্যুতিক মোটরটি বিকল হওয়ায় পানির সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সমস্যা সমাধানের জন্য সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই মোটরটি সচল করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

×