ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৩৫ কিলোমিটার সড়ক মাত্র ১৮-২২ ফুট প্রশস্ত

৩৫ কিলোমিটার সড়ক মাত্র ১৮-২২ ফুট প্রশস্ত
×

সাম্প্রতিক বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে যায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ, ছবিটি সাতকানিয়ার জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজ এলাকা থেকে তোলা ফাইল ছবি

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের আওতাধীন চন্দনাইশ উপজেলার বিজিসি ট্রাস্ট এলাকা থেকে সাতকানিয়ার শেষ সীমানা পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত সরু। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কটির প্রশস্ততা ১৮ ফুট থেকে ২২ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরু এই সড়ক দিয়ে বিপুল পরিমাণ যানবাহন চলাচল করায় বিভিন্ন পয়েন্টে মারাত্মক যানজট ও দুর্ঘটনা লেগে আছে।

চন্দনাইশ উপজেলার রওশনহাট, বাদামতল, খানহাট, গাছবাড়িয়া কলেজ গেট, বাগিচাহাট, দেওয়ানহাট, দোহাজারী পৌরসভা, সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান, কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়া পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পয়েন্ট যানজটের মূল কেন্দ্র। এসব এলাকায় একবার যানজট লাগলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতেই সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের আওতায় ২টি প্যাকেজে সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। চন্দনাইশের বিজিসি ট্রাস্ট এলাকা থেকে সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজ পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার অংশ ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়েছে বলে সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সড়কটির আলোচ্য অংশে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। বিশেষ করে চন্দনাইশের বিজিসি ট্রাস্ট এলাকা, রওশনহাট, হাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে, বাগিচাহাট অংশ, খান বটতল, বড়পাড়ার উত্তরে, সোনাই বটতল, দেওয়ানহাট মোড়, দোহাজারী পৌরসভা সদরের উত্তর অংশ, সাতকানিয়ার বিওসি মোড়, সাতকানিয়া রাস্তার মাথা অংশে বাঁকগুলোয় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।

অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চলতি মাসের শুরুতে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানি স্থায়ী হয় প্রায় ৪ দিন। চন্দনাইশের হাশিমপুর বড়পাড়া সংলগ্ন পাঠানীপুল, সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান থেকে কেরানীহাট, রাস্তারমাথা পুরোটাই ডুবে ছিল। মহাসড়কের উপর দিয়ে কোমর সমান পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল প্রায় ৩ দিন। বন্যার পানি এই দুই উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চলাচল করায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পরবর্তী সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশে ইট, পাথর, বিটুমিন দিয়ে সড়ক যোগাযোগ সচল করা হয় বলে জানিয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ রাফিজ বিন মনজুর।

এছাড়া মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত চন্দনাইশের খানহাট-ধোপাছড়ি-বান্দরবান সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বস হয়েছে, অধিকাংশ স্থানে সড়ক ধ্বসে পড়ে গেছে। গাছবাড়িয়া-বরকল-আনোয়ারা সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশ জুড়ে সড়কে ফাটল, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সড়ক বাঁধ এবং সৃষ্টি হয়েছে পটহোল। এছাড়া কেরানীহাট-সাতকানিয়া-গুনাগড়ি সড়কের প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশ জুড়ে অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে সড়ক এজ ব্রেকিং হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সড়ক বাঁধ, পটহোল সৃষ্টিসহ সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ বলেন, ‘সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া অংশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। এতে দুই উপজেলাধীন সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে ফাটল ও সড়ক সার্ফেসে পটহোল সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পরবর্তী জরুরি মেরামতের আওতায় ইট, পাথর বিটুমিন দিয়ে তা মেরামত করে সড়ক যোগাযোগ সচল করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চন্দনাইশের বিজিসি ট্রাস্ট অংশ থেকে সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজ পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক ৩৪ ফুট প্রশস্থ করা হবে। এছাড়া জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজ থেকে কেরানীহাট অংশ ৩৪ ফুট প্রশস্থ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দেয়া আছে। চন্দনাইশের বিজিসি ট্রাস্ট অংশ থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত ৩৪ ফুট প্রশস্থকরণের সময় ঝুঁকিপূর্ণ অধিকাংশ বাঁক সরলীকরণ হয়ে যাবে। এতে দুর্ঘটনাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।’

আরও পড়ুন

×