বগুড়ায় শনিবার থেকে করোনা শনাক্তকরণ শুরু হতে পারে
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:০২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে (শজিমেক) করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্র পিসিআর (পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন) বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ল্যাব টেকনিশিয়ানদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
শজিমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৮ এপ্রিল শনিবার থেকে কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশে ‘নভেল করোনা’ নামে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসটির অস্তিত্ব গত ৮ মার্চ ধরা পড়ে। তারপর থেকেই ওই ভাইরাসে আক্রান্ত এবং তাতের মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। শুরুতে শুধুমাত্র ঢাকার একটি স্থানেই করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে পরবর্তীতে তা দেশের অন্য বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজগুলোতেও চালু করা হয়। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার জন্য মার্চের শেষ সপ্তাহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পিসিআর স্থাপন করা হয়। বর্তমানে সেখানেই বগুড়ার নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
তবে একাধিক জেলার নমুনা পরীক্ষার কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে রিপোর্ট পেতে কমবেশি ৪৮ ঘণ্টা লেগে যায়। এতে সন্দেহভাজন রোগী এবং তাদের স্বজনদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। চিকিৎসকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ মাইক্রোবাইলোজি বিভাগে পিসিআর স্থাপনের দাবি উঠতে থাকে। তার পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানান, পিসিআর স্থাপনের জন্য এপ্রিলের প্রথম দিকে কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পিসিআর স্থাপনের কাজটি খুব দ্রুতততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য প্রথমেই ওই বিভাগের একটি কক্ষকে প্রস্তুত করা হয়। সেখানে ৪টি ইনক্লোজার, সিলিং এবং পাশাপাশি দুটি টয়লেটসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর গত ৮ এপ্রিল পিসিআর যন্ত্র এসে পৌঁছে এবং তা স্থাপনের কাজ শুরু হয়।
পিসিআররের কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে তা জানতে চাইলে শজিমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানান, যন্ত্র স্থাপন হয়ে গেছে। এখন টেকনিশিয়ানদের ট্রেনিং চলছে। আর আনুষঙ্গিক কিছু টেকনিক্যাল কাজ বাকি আছে। সেজন্য আজকেই (বৃহস্পতিবার) টেকনিশিয়ানদের আসার কথা আছে। তাদের কাজ শেষ হলে ইনশাআল্লাহ্ শনিবার থেকে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
