বরিশালে করোনার উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু, লাশ দাফনে বাধা
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৮:৫৫ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
বরিশালে করোনার উপসর্গ নিয়ে দেড় বছরের একটি শিশুর মৃত্যুর পর তার লাশ দাফনে বাধা দেন প্রতিবেশিরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে শিশুটির লাশ দাফন করা হয়। শিশুটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিল কি-না তা নিশ্চিত হতে তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি দল।
শনিবার নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগান এলাকার বাসিন্দা ওই শিশুটি মারা যায়। ওই এলাকার একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিত্যক্ত জমিতে ঝুপরি ঘর তুলে থাকেন প্রতিবন্ধী সবুজ হাওলাদার। পেশায় তিনি ভিক্ষুক। তার দেড় বছর বয়সী সন্তান শাহাদত শনিবার সকাল ১০টার দিকে মারা যান।
সবুজ হাওলাদার জানান, তার দেড় বছর বয়সী ছোট ছেলে শাহাদত কয়েকদিন ধরে জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছিল। স্থানীয় এক চিকিৎসকের পরমর্শে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। শনিবার সকাল ১০টার দিকে সন্তানের সারাশব্দ না পেয়ে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করতে থাকেন। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও তারা কেউ ঘরে না ঢুকে দুর থেকে উকি দিয়ে চলে যান।
কোতোয়ালী মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এস.আই) আরাফাত হাসান জানান, অমানবিক এ ঘটনাটি স্থানীয় এক ব্যক্তি কোতোয়ালী থানায় জানান। খবর পেয়ে তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ বেলা ১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। পরে তারা নিরাপত্তা পোশাক সংগ্রহসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক প্রস্ততি সেরে বিকাল ৩টার দিকে লাশ উদ্ধার করেন। মরদেহের গোসল শেষে বিকাল ৫টার দিকে জানাজা দেয়া হয়।
পুলিশ উপ-পরিদর্শক আরাফাত আরও জানান, স্থানীয় ইমাম জানাজা পড়াতে রাজি না হওয়ায় তাকে অনেকটা জোরপূর্বক জানাজা পড়াতে বাধ্য করা হয়। সামাজিক দূরত্ব রেখে ৫-৬ জন জানাজায় অংশ নেন। পরিবারের ইচ্ছায় দাফনের জন্য সদর উপজেলার তাজকাঠী গ্রামে লাশ নিয়ে যাওয়া হয়। তখন স্থানীয় কিছু লোকজন সেখানে দাফনে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় পুলিশ কঠোর অবস্থানে গেলে স্থানীয়রা পিছু হটে ও লাশ দাফন করা হয়।
