খোকসার প্রায় ২০০ আদিবাসী পরিবারে ত্রাণ পৌঁছায়নি
ছবি: সমকাল
মুনসী লিটন, খোকসা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৮:৫৫ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:৪৭
করোনাভাইরাস সংকটে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার হিলালপুর আদিবাসী পল্লীর প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারসহ শিমুলিয়া কুঠিপাড়া, কমলাপুর, শোমসপুরে গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক আদিবাসী পরিবারের লোকেরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ সব জনপদে বসবাসকারী আদিবাসীদের অধিকাংশই বিন্দী, বাগদী ও ঋষি সম্প্রদায় ভুক্ত। এদের কেউ পূজা পার্বণ ও বিয়ে বাড়ির বাদ্য বাদক, রেল ষ্টেশনে কুলির কাজ করেন, মাছ ধরেন, কৃষি শ্রমিক, রিকসা ভ্যান চালক আবার কেউ সেলুনের দোকানে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করেন। করোনার প্রাদুর্ভাবে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়ায় কর্মহীন আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকেদের এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
খোকসার হিলালপুর-কাদিরপুর খালের পাড়ে বিন্দি সম্প্রদায়ের প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবারের বসবাস। তাদের প্রধান পেশা নদী খাল বিল থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করা। জলাধার কমে যাওয়ায় তাদের অনেকেই স্বপেশা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এই গ্রামের কাউকে অন্যগ্রামের মানুষ কাজে নিচ্ছে না। এমনকি গ্রামের বাইরে নদীতেও মাছ ধরতে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। এ মহল্লার প্রায় ১০ জন নারী কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। কারখানা বন্ধের পর তারাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
এই পল্লীর একজন বাসিন্দা অঞ্জলী। করোনার কারণে কারখানা বন্ধের দিন সাতশ' টাকা পেয়েছিলেন। সে টাকায় দুই সপ্তাহ চলেছে। এখন কাজ নেই। মহাজন মতিন মিয়া তাদের ডেকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছেন। না হলে, তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হত। এ পল্লীর অন্যসব পরিবারও কোনরকম খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন।
শিমুলিয়া কুঠিপাড়া আদিবাসীরা শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভুক্ত। তারাও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এ পল্লীতে প্রায় ২৫টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস। তাদের ভাগ্যেও ত্রাণ জোটেনি। এ পল্লীর চম্পা, মুক্তি, বাসুদেব জানায়, প্রশাসেনরে চাপে তারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। তাদের মহল্লায় ঢোকার গলিটিও বাঁশ আর কাঁটা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবার ত্রাণ দিতেও কেউ আসেনি। এক নেতা প্রথম দিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩ কেজি চাল আর ২ কেজি করে ময়দা পাঠিয়েছিলেন। পরে আর ত্রাণতো দূরের কথা চেয়ারম্যান-মেম্বর কেউ খোঁজও নেননি।
পৌর এলাকার কমলাপুর ঋষি পাড়ায় প্রায় শতাধিক আদিবাসী পরিবারের বাস। তারা পূজা ও বিয়ে অনুষ্ঠানে বাদক দলের কাজ করেন। এ ছাড়া সারা বছর সংসারে নিত্য প্রয়োজনীয় বাঁশের পণ্য চালুন, কুলা, ঢাকি ইত্যাদি তৈরি করে বাজারজাত করেন। কিন্তু করোনার প্রভাবে পূজা ও বিয়ে উৎসব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের সংসার চলছে মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকায়।
খোকসা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাদশা বলেন, তার ওয়ার্ডের ৮শ' গরিব মানুষ রয়েছেন। তিনি কার্ড পেয়েছেন মাত্র ৩৫টি। সেই হিস্যানুয়ায়ী ১/২ জন আদিবাসী ত্রাণ পেয়েছে। তিনি স্বীকার করেন প্রকৃত পক্ষে আদিবাসীরাই ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য।
