ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

নওগাঁয় তালসড়কে পিঠার মেলা

নওগাঁয় তালসড়কে পিঠার মেলা
×

ছবি: সমকাল

নওগাঁ সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৩:৪৯

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রাম। এখানে এলে চোখে পড়ে চারপাশে সবুজ বিস্তৃত ধানের ক্ষেত আর তার মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে সারি সারি তালগাছ। ফলে এ রাস্তা স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছে তালসড়ক বা তালের রাজ্য নামে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিকেলে প্রচুর মানুষ এ রাস্তায় ঘুরতে আসেন। সেই তালের রাজ্যে গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী তালের রস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পিঠার মেলা। যার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ওইদিন এ মেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় এমপি ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ২০২১ সালে প্রথমবার এখানে তালপিঠার মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। এটি মেলার দ্বিতীয় আয়োজন।

গতকাল শনিবার মেলা ঘুরে দেখা যায়, কখনও ঝিরিঝিরি আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দুপুরের পর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ ভিড় করেছেন মেলায়। বৃষ্টিভেজা সবুজ ধানক্ষেত আর নয়নাভিরাম তালগাছের সারির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি সবাই স্বাদ নিচ্ছেন নানা পদের পিঠার। বাড়তি পাওয়া লোকজ গানের আসর। তালগাছের নিচেই মেলায় ১০টির বেশি স্টলে সুস্বাদু এ ফলের রস দিয়ে তৈরি অন্তত ৩০-৩৫ ধরনের পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে আছেন উদ্যোক্তারা। এসব পিঠার রয়েছে বাহারি নাম; যেমন– জামাইপিঠা, পাকান, কানমুচুরি, তালক্ষীর, হৃদয়হরণ ইত্যাদি।

শুধু পিঠা নয়; মেলায় আরও বিক্রি হচ্ছে শখের মিঠাই, জিলাপি, চানাচুর, বাতাসা, ফুচকা, চটপটি, ঘুগনিসহ আরও হরেক রকম খাবার। এসেছে নাগরদোলা, বন্দুক নিশানায় বেলুন ফাটানোসহ আরও অনেক খেলা। কাছের এক গ্রাম থেকে মেলায় আসা দর্শনার্থী মো. সাজু বলেন, সারি সারি তালগাছের নিচে তালের মিষ্টি রস দিয়ে তৈরি বাহারি পিঠার স্বাদ নিতে পেরে আমরা অনেক খুশি।

পরিবার নিয়ে নওগাঁর সদর থেকে পিঠা উৎসব দেখতে আসা সাহেব আলী সরকার বলেন, এই সড়কের ছবি ফেসবুকে অনেক দেখেছি; কিন্তু কখনও সামনাসামনি দেখা হয়নি। এর মধ্যে শুনলাম, এখানে তালপিঠার মেলা বসবে। তাই পরিবার নিয়ে দেখতে এলাম। তালগাছের এমন সারি দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। পাশাপাশি মেলাতে বিভিন্ন রকম তালের পিঠা দেখলাম ও খেলাম।

মেলায় পিঠার স্টল দেওয়া মিনা বেগম জানান, তিনি তালের রসে তৈরি অন্তত ৩০ রকমের পিঠা এনেছেন। এর মধ্যে বিশেষ হলো তালের রসের রসগোল্লা। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। পিঠার দাম ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তিনি খুশি।

গত শুক্রবার পিঠা উৎসবের উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে আশির দশকে হাজিনগর-ঘুঘুডাঙ্গা দুই কিলোমিটার সড়কজুড়ে এই তালগাছগুলো আমি লাগিয়েছিলাম। সে সময় অনেকে পাগলও বলেছিল। আজ সেসব তালগাছ বড় হয়ে সড়কটিকে সৌন্দর্যময় করে তুলেছে। তালসড়ককে কেন্দ্র করে ঘুঘুডাঙ্গাকে একটি পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। জলবায়ু ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ এখানে অর্থায়নের আশ্বাস দিয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যটনবান্ধব হিসেবে তালসড়ককেন্দ্রিক এলাকাকে গড়ে তোলা হবে।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মওলা, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক, নিয়ামতপুরের ইউএনও ইমতিয়াজ মোরশেদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×