চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন
চাচা-ভাতিজা দুই ভান্ডারীর লড়াই
নজিবুল বশর ও সাইফুদ্দিন আহমদ
তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম ও ইকবাল হোসেন মনজু, ফটিকছড়ি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ২৩:১৬ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ২৩:১৬
সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা। চাচা নজিবুল বশর তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি এবং ভাতিজা সাইফুদ্দিন নতুন নিবন্ধিত দল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) সভাপতি। এতদিন নির্বাচনে চাচা খুব সহজে পার পেয়ে গেলেও এবার তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভাতিজা। ফলে আগামী নির্বাচনে অন্যরকম এক প্রতিযোগিতা দেখা যাবে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে। ভাতিজা সাইফুদ্দিন আহমদ বলছেন, ফটিকছড়িতে চাচার দিন শেষ। তাঁকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। যদিও ভাতিজার এমন কথাবার্তাকে তেমন পাত্তা দিতে চাইছেন না চাচা নজিবুল বশর। তিনি বলছেন, আগামী নির্বাচনেও এমপি হবেন তিনি। ভোটের পর ভাতিজা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেবেন।
তরীকত ফেডারেশন ও সুপ্রিম পার্টির প্রধান দুই ভান্ডারীই হচ্ছেন মাজারকেন্দ্রিক সুফি ও সুন্নি মতাদর্শী তরিকার বেশ পরিচিত মুখ। মাইজভান্ডার শরিফের এ দুই পীরের সারাদেশে লাখ লাখ ভক্ত-মুরিদ রয়েছেন।
এ কারণে তাদের ভোট ব্যাংকও প্রায় অভিন্ন। এর বাইরে এলাকায় দু’জনেরই কমবেশি জনপ্রিয়তা রয়েছে। এলাকার মানুষ ও মুরিদদের সমর্থনকে পুঁজি করে আসন্ন নির্বাচনে জয়ের স্বপ্নে বিভোর তারা এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন।
ফলে দিন দিন তাদের ঘিরে মানুষের কৌতূহল বাড়ছে।
১৪ দলের শরিক দল হিসেবে তরীকতের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ফটিকছড়িতে নির্বাচন করে আসছেন। নির্বাচন সামনে রেখে লিবারেল ইসলামিক জোট নামে ছয় দলের একটি জোটও গঠন করেছেন তিনি। এর সঙ্গে দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর দাবি তো রয়েছেই। তবে এবার নজিবুল বশরের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে বিএসপির সাইফুদ্দিন আহমদও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
নজিবুল বশর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে দলবদল করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন।
২০০১ সালে বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল আনোয়ারের কাছে পরাজিত হন। এর পর বিএনপি ছেড়ে তিনি গঠন করেন তরীকত ফেডারেশন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক তরীকত ফেডারেশন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় ফটিকছড়ির আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর পক্ষে কাজ করে। এক সময় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ তাঁর বিরুদ্ধে চলে যায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন তিনি। সেই নির্বাচনে অবশ্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন সাইফুদ্দিন আহমদ।
এবার অবশ্য নজিবুল বশরকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। আসনটিতে দলের প্রার্থী চান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও। তাঁকে আর এলাকার ‘কান্ডারি’ হিসেবে মানতে চাইছেন না তারা। একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন তাঁরই ভাতিজা সাইফুদ্দিন আহমদ। গত নির্বাচনে অবশ্য ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে হেরেছিলেন তিনি। তবে এবার ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বিএসপিপ্রধান। এ অবস্থায় ১৪ দলের কঠিন নির্বাচনী সমীকরণকে কাজে লাগিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় তারা। এলাকায় বড় ভোট ব্যাংক থাকায় এখন থেকেই আন্দোলনের পাশাপাশি ভোটের তৎপরতা শুরু করেছেন দলটির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।
ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনে ফ্যাক্টর হবে তাদের এই ভোট ব্যাংকও। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জানান, দল থেকে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাঁর জন্যই কাজ করবেন তারা।
সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী সমকালকে বলেন, আমি আবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব এবং এমপি নির্বাচিত হবো। অনেকেই অনেক কিছু বলছেন, অনেকে ষড়যন্ত্র করছেন। সেদিকে নজর দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য আমরা ১৪ দলীয় জোটে ঐক্যবদ্ধ। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও নির্বাচন হয়ে যাবে। শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন।
বিএসপি চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন, এলাকার সন্তান হিসেবে সবসময় ফটিকছড়িবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামীতেও যে কোনো প্রয়োজনে আমি তাদের পাশে থাকতে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। এবার জোটগতভাবে নির্বাচন করব।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম-২
- ফটিকছড়ি
- চাচা-ভাতিজার লড়াই
